রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চলের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি রাতভর কয়েকটি রুশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্র হামলার নিশানা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। গতকাল রবিবার ইউক্রেন তাদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় এ হামলা চালায়। বিবিসির খবরে বলা হয়, হামলার ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। তবে দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রেস সার্ভিস। এদিকে, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্ট লাইন বরাবর আরও দুটি বসতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জানার্ল জানিয়েছে, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে নীরবে বাধা দিচ্ছে পেন্টাগন।
ইউক্রেনের হামলায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। রাশিয়ার লেনিনগ্রাদের একটি বন্দরেও আগুন নেভাতে দমকলকর্মী পাঠানো হয়েছে। সেখানে আছে রাশিয়ার একটি বড় জ্বালানি রপ্তানি টার্মিনাল। আঞ্চলিক গভর্নর বলেছেন, অন্তত ১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেন কোনো মন্তব্য করেনি। জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বলেছে, তারা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় আগুন লাগার খবরের বিষয়ে অবগত। সংস্থাটির মহাপরিচালক বলেছেন, প্রতিটি পারমাণবিক স্থাপনাই সব সময় সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। আইএইএ বারবারই রাশিয়া এবং ইউক্রেন দুই পক্ষকেই যুদ্ধে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ঘিরে সবচেয়ে বেশি সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে নাটকীয়ভাবে ইউক্রেনের হামলা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে পেট্রোলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সংকট মোকাবিলায় রুশ সরকার পেট্রোল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও দাম বাড়ানো ঠেকানো যায়নি। রাশিয়ার যুদ্ধের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করার লক্ষ্যে ইউক্রেন এখন ড্রোন হামলায় মনোনিবেশ করছে। তেল শোধনাগার, পাম্পিং স্টেশন ও জ্বালানিবাহী ট্রেনে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গ্রীষ্মকালে রাশিয়ার পরিবহনচালক ও কৃষকদের কাছে পেট্রোলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, শুধু এ মাসেই অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রুশ জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়েছে।
এদিকে, রুশ সেনারা পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্ট লাইন বরাবর আরও দুটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই দাবির প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কোনো গ্রাম হাতবদল হওয়ায় বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইউক্রেন বলেছে, তাদের বাহিনী রুশ সেনাদের কাছ থেকে পশ্চিমে দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রান্তে একটি বসতি পুনর্দখল করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুই পক্ষের কারও যুদ্ধক্ষেত্রসংক্রান্ত এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) জানিয়েছে, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে নীরবে বাধা দিচ্ছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের কারণে মস্কোর হামলার বিরুদ্ধে কিয়েভের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হয়। এরপর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতা ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও তার বৈঠক হয়। তবে কোনো বৈঠকেই দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি আবারও রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শান্তিচুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ সরে যাওয়ার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করছেন।