রাঙ্গাবালী

জামায়াতপন্থী শিক্ষককে মারধর করায় মানববন্ধন

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের লক্ষ্মীবেষ্টিন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু হানিফ মোল্লাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

হামলার শিকার শিক্ষক আবু হানিফ মোল্লার দাবি, ওই ইউনিয়নের চরবেষ্টিন ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল প্যাদা নিজে এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।  

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় লক্ষ্মীবেষ্টিন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চরবেষ্টিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়ে নানা শ্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, দাবি একটাই-অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

মারধরের শিকার হওয়া সহকারী শিক্ষক ও চরমোন্তাজ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবু হানিফ মোল্লা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চরবেষ্টিন বাজার এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য ও চরবেষ্টিন ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল প্যাদা প্রথমে নিজে তাকে মারধর করেন। পরে ৬-৭ জন লোক দিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। 

হানিফ মোল্লার অভিযোগ অনুযায়ী, কিল-ঘুষি এবং এলোপাতাড়ি লাথিসহ লাঠিসোটা দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। ফলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান আবু হানিফ মোল্লা। 

অপরদিকে চরবেষ্টিন ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল প্যাদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দোকানে দোকানে ঘুরে আবু হানিফ আমার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজি সংক্রান্ত অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। আমি তাকে ডেকে তার নয়- তার কথার বিচার হবে বলেছি। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এই উপজেলায় তার বিচার করার কেউ নেই’। এতে রাগ হয়ে তাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছি। আমাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছিল, সে জুতা হাতে নিয়ে আমার দিকে তেড়েও এসেছিলেন। তবে কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন হয়েছে শুনেছি, আমিও করবো।  

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানিয়েছেন, শুনেছি দেনা-পাওনা ইস্যু নিয়ে নাকি ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়ে এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।