ঘুমিয়ে আছে জেলার ফুটবল- অভিযোগটা পুরনো। এ নিয়ে কাজী সালাউদ্দিন আমলে হয়েছে অনেক সমালোচনা। তারপরও ঘুম ভাঙেনি সাবেক সভাপতি ও তার সভাষদদের। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বদলেছে বাফুফের নেতৃত্ব। ১৬ বছরের সালাউদ্দিন আমলের অবসান ঘটেছে, ফুটবলের মসনদে এখন তরুণ তাবিথ আউয়াল। জেলার ফুটবলকে জাগাতে তাই সরকারের তারুণ্য উৎসব ব্যনারকে বেঁছে নিয়েছেন তিনি।
সরকারকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের মহা পরিকল্পনা করেছে বাফুফে। ১৮ কোটি টাকা বাজেটের এই টুর্নামেন্ট দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা জেলার ফুটবলকে একটা ঝাকুনি দিয়ে চায় বাফুফে। সাড়ম্বরে সেই ঘোষণাটাই সোমবার দিয়েছে বাফুফে।
সারা দেশব্যাপী তারুণ্য উৎসবের ব্যানারে মোট তিনটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের জন্য বাফুফে ১৮ কোটি টাকার একটা খসরা বাজেট করেছে। বাকী ৮ কোটি টাকা জোগানের দায়িত্ব বাফুফের নিজের। জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।
৩০ আগস্ট মুন্সিগঞ্জে স্বাগতিক জেলা ও জামালপুরের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। যেখানে অংশ নিচ্ছে ৬৪ জেলা দল। আটটি পটে বিভক্ত করা হয়েছে জেলাগুলোকে। প্রতিটি পটের নামকরণ করা হয়েছে জুলাই শহীদদের নামানুসারে। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই রাউন্ড হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। অর্থাৎ ৬৪ থেকে ৩২, এরপর ৩২ থেকে তৃতীয় পর্বে নেমে ১৬টি দল। এই ১৬ দল নিয়ে শুরু হবে নকআউট পর্ব। শেষে দুই দল নিয়ে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল।
টুর্নামেন্ট আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী (হ্যাপি) জানান, এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে জেলায় ফুটবল নিয়ে একটা উন্মাদনা শুরু হবে। সিনিয়রদের আসর চলা অবস্থায় বাফুফে অনূর্ধ্ব-১৭ পুরুষ ও নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করবে। এই তিনটি আসরের সফল সমাপ্তির মধ্য দিয়ে তৃণমূল থেকে একটা ভালো পরিমানের প্রতিভাবান ফুটবলার বাছাই সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
টুর্নামেন্টের লোগো ও সূচী উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম। তিনিও বিশ্বাস করেন সরকার ও বাফুফের এই যৌথ উদ্যোগ তরুণ সমাজে একটা উন্মাদনার সৃষ্টি হবে, 'ফুটবল এমন একটা খেলা যার মাধ্যমে খুব সহজেই যুব সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। গত বছর সরকার তারুন্যের উৎসব করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল। এবারও তাই আমরা এই আয়োজন করতে যাচ্ছি। আমি বেশ কয়েকবার ৬৪ জেলার জেলার প্রশাসকের সঙ্গে সভা করেছি যাতে ভালোভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়। নারী ফুটবলাররা নিয়মিত সাফল্য এনে দিচ্ছে দেশকে। আমি মনে করি এই টুর্নামেন্টের মধ্যে দিয়ে আমরা আরও অনেক বেশি প্রতিভাবান ফুটবল তৃণমূল থেকে খুঁজে পাবো।'
ক্রীড়া সচিব আরও জানিয়েছেন ফুটবলের পাশাপাশি অনান্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকেও সরকার সহায়তা দেবে তারুন্যের উৎসবের ব্যানারে।