বেইজিং সফরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদল

চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গত রবিবার চীন সফরে গিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনের সঙ্গে শীতল হয়ে পড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং চীনে এই প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটন গিয়েছেন। চীন সফরে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার পার্ক বিয়ং-সিউগ বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লেখা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের একটি চিঠি হস্তান্তর করা হয়।

২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সিউলের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। বেইজিংয়ে ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানায়। পরে সিউল ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক টানাপড়েন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল চীনকে নিয়ে সমালোচনা করে মন্তব্য করেছিলেন। এর ফলে তখন দুই দেশের মধ্যে তিক্ত বাক্যবিনিময় হওয়ার কারণে সম্পর্ক আবার শীতল হয়ে পড়ে। এই সফরে পার্ক বিয়ং-সিউগ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এই সফরের মধ্য দিয়ে সিউল-বেইজিং সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথ খুলবে বলে তিনি আশা করছেন এমনটাই জানিয়েছে ইয়োনহাপ।

এদিকে, গতকাল হোয়াইট হাউজে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প হয়তো কোরীয় উপদ্বীপে বড় ধরনের কূটনীতিক সাফল্যের সুযোগ পাবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলে আসছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।