জেদ্দায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় আরবি ক্যালিগ্রাফি আর্টস ফোরাম। প্রাচীন আরবি ক্যালিগ্রাফিকে ঘিরে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক শিল্পমেলায় অংশ নিচ্ছেন আরব বিশ্বের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্তের খ্যাতিমান ক্যালিগ্রাফার ও ভিজ্যুয়াল আর্টিস্টরা। ২২ আগস্ট শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীরা আরবি লিপির শৈল্পিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য এবং নান্দনিক রূপ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবি ক্যালিগ্রাফি শুধু একটি শিল্পই নয়, বরং এটি মুসলিম সভ্যতার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতীক। কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করা থেকে শুরু করে স্থাপত্য ও সজ্জাশিল্পে আরবি ক্যালিগ্রাফির ব্যবহার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিল্পচর্চার অংশ হয়ে আছে। জেদ্দায় আয়োজিত এ ফোরাম তাই কেবল একটি শিল্প প্রদর্শনী নয়, বরং এটি আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত গভীরতর ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন।
ফোরামের সমন্বয়ক সাউদ খান জানান, ক্যালিগ্রাফি নিয়ে এটি বিশাল বড় এক আয়োজন। এ বছর এতে প্রদর্শিত হচ্ছে ১৩৮টি শিল্পকর্ম, যা তৈরি করেছেন ১৩টি দেশের ১০৫ জন ক্যালিগ্রাফার। এর মধ্যে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছেন সৌদি আরবের নির্বাচিত একদল শীর্ষ ক্যালিগ্রাফার।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য যে শিল্পকর্মগুলো বাছাই করা হয়েছে তা কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ক্যালিগ্রাফারদের একটি কমিটি এ বাছাই প্রক্রিয়া তদারকি করেছেন, যাতে উচ্চমানের শিল্পকর্মই প্রদর্শনীতে স্থান পায়। প্রদর্শনীর পাশাপাশি ফোরামে রয়েছে লাইভ আর্ট পারফরম্যান্স ও বিশেষায়িত কর্মশালা। এসব আয়োজন তরুণ ও উদীয়মান ক্যালিগ্রাফারদের দক্ষতা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরাও শিল্পীদের কাজ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব কর্মশালা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্যালিগ্রাফির প্রতি অনুপ্রাণিত করবে এবং এ শিল্পের সঙ্গে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করবে।
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আলোকে এ উদ্যোগকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিশন ২০৩০-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সৃজনশীল শিল্পকে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া। এ কারণে ভিজ্যুয়াল আর্টসকে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সৌদি আরবকে একটি শিল্পকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চলছে। ক্যালিগ্রাফি ফোরামকে সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আয়োজকরা আশা করছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনের মাধ্যমে সৌদি আরব শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণ আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি বিশ্বব্যাপী নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে। তরুণ শিল্পীদের জন্য এটি হবে শেখার, যোগাযোগ তৈরির এবং নিজেকে বিকশিত করার একটি মূল্যবান সুযোগ।
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আরবি ক্যালিগ্রাফি আর্টস ফোরাম তাই একদিকে যেমন আরব ও মুসলিম বিশ্বের শৈল্পিক ঐতিহ্যকে সামনে এনেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক অবস্থানকে
আরও সুদৃঢ় করেছে। সূত্র : আরব নিউজ