হাইকোর্টের রায়

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার

যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ২০১৮ সালে করা একটি রিট পিটিশনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। ৩১ বছর আগে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিটি অবৈধ ঘোষণা করে এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুসারে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকবে। ১৯৯৩ সালে সরকার ৭৩৯টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে। কিন্তু পরে সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে ১১৭টি ওষুধের তালিকা উল্লেখ করে বলা হয়, এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার। পাশাপাশি তালিকাবহির্ভূত সব ওষুধের দাম উৎপাদনকারী কোম্পানি নির্ধারণ করবে বলে জানানো হয়। এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে জনস্বার্থে একটি রিট মামলা করে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।

একই বছরের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়। বিজ্ঞপ্তিটি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় আদালত। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ মালিক সমিতির সভাপতি/সেক্রেটারিসহ ছয়জন বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল ওই বিজ্ঞপ্তিটি অবৈধ ঘোষণা করে এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় ম-ল। ওষুধ মালিক সমিতির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস কে মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ এজাজ কবির। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চিকিৎসা ও ওষুধের সহজলভ্যতা নাগরিকের অধিকার। কিন্তু এর মূল্য নির্ধারণ করে ৩০ বছর আগে ওই বিজ্ঞপ্তিটি মানুষের সেই অধিকারকে ক্ষুণœ করেছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১১৭টি ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে। কিন্তু এখন তো অসংখ্য ওষুধ কোম্পানি। কয়েক হাজার ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিগুলো। হাইকোর্ট এখন থেকে সরকারকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও তা গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।’