কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে কথিত মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত করার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যাল বিষয়টি প্রকাশ করেন। অবশ্য এর আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুককে লক্ষ্য করে হুমকির একটি প্রচারাভিযান চলছিল। প্রেসিডেন্ট এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছেন, যাতে তারা সুদের হার কমায়। কুক সাত সদস্যের বোর্ড অব গভর্নর্সে কাজ করছেন। এই বোর্ড এবং ১২টি রিজার্ভ ব্যাংকের মধ্যে পাঁচজন প্রেসিডেন্ট একত্রে মিলে গঠন করে ফেডের সুদের হার নির্ধারণকারী সংস্থা ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি)। ফেডের শতবর্ষের ইতিহাসে তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী যিনি বোর্ডে নিযুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২২ সালে তাকে মনোনীত করেন। বাইডেন তাকে নতুন করে ১৪ বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ দেন, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০৩৮ সালে।

কুক অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী। ফেডে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ছিলেন। তার গবেষণা মূলত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক সংকট, বর্ণভিত্তিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উদ্ভাবনের অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ে কুক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজার্সে কাজ করেছেন এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফেডে কুক যোগ দেন এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি ৪০ বছরে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক সুদের হার বৃদ্ধির পথে ছিল। তার লক্ষ্য ছিল দ্রুত বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি ঠেকানো। তিনি প্রতিটি বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলও ছিলেন।

২০২২ সালে সিনেটে সরাসরি দলীয় লাইনে ভোটাভুটিতে কুক অনুমোদন পান। সে সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ৫০-৫০ সমতায় নিজের ভোট দিয়ে সিদ্ধান্ত ভাঙেন। জর্জিয়ার বাসিন্দা কুক এমন একটি পরিবারে জন্মেছেন, যারা নাগরিক অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে কুক ও তার সহ-লেখক আনা গিফটি ওপোকু-আগ্যেমান কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে গিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন, তা নিয়ে লেখেন। ২০২৩ সালে ৪৯২টি অর্থনীতির ডক্টরেট ডিগ্রির মধ্যে মাত্র চারটি কৃষ্ণাঙ্গ নারী পেয়েছেন। কারণ গবেষণা প্রকাশনা ও উদ্ধৃতিতে বৈষম্যের শিকার হতে হয়।

অর্থনীতির এই বিশেষ ক্ষেত্রে কুকের দক্ষতা নীতিনির্ধারকদের কাছে তাকে আলাদা করে তুলেছে। ফেডে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতা নিয়ে বেশ কয়েকটি বক্তৃতা দিয়েছেন। নতুন প্রযুক্তি কীভাবে শ্রমবাজার এবং অর্থনীতির অন্যান্য খাতকে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা যখন সংগ্রাম করছেন, তখন কুকের গবেষণা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।