স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন

শুভাঢ্যা খাল দখলকারীদের কোনো ছাড় নেই

শুভাঢ্যা খাল দখলকারীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে শুভাঢ্যা খাল উদ্ধার করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জে শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন এবং খালের উভয় পাড়ের উন্নয়ন ও সুরক্ষা ১ম পর্যায় শীর্ষক প্রকল্প কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যারা সরকারি খাল দখল করেছে বা অবৈধ স্থাপনা গড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং শাস্তিও হবে। শুধু উচ্ছেদ করলে তারা আবারও দখল করবেতাই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীর কাছে হওয়ায় কেরানীগঞ্জে ভূমিদস্যুর সংখ্যা বেশি। স্থানীয় সবাইকে নিয়ে ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে। সেই সঙ্গে খাল দূষণ ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। খালটি পুনঃখনন হলে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে ও কেরানীগঞ্জের পরিবেশ সুন্দর হবে।’ অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩১৭ কোটিতে আনা হয়েছে, অর্থসাশ্রয় ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেই এ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। শুভাঢ্যা খাল এখন প্লাস্টিক আর জুটের খাল হয়ে গেছে। জাতীয় স্বার্থে শুভাঢ্যা খাল ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে খালটি খননের পর কারখানার বর্জ্য ও পয়োঃ বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হওয়ায় সেনাবাহিনীকে খালের কাজটি দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, জনগণের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বাস্তবায়নের ধরন পরিবর্তন ও অপ্রয়োজনীয় খাত বাদ দেওয়ায় খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে খালের কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে খাল খনন করা হবে ১৪.১ কিলোমিটার এবং পাড় নির্মাণ করা হবে ৭.২ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে খালের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ২ হাজার ৬০০ গাছ লাগানো হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, সেনাসদরের ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মু. হাসান-উজ-জামান, বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন প্রমুখ।