সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জে ১৫০০ থেকে ২০০০ হাজার লোক পাথর চুরি করে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে ২০০০ হাজার লোককে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে দাখিলকৃত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সিলেট জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিটকারীপক্ষ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ভোলাগঞ্জের পাথর লুটের ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এইচআরপিবির সভাপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। একইদিন আবেদনটির ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ গুচ্ছ আদেশ ও নির্দেশনা দেয়। ভোলাগঞ্জ থেকে লুটকৃত সাদা পাথর উদ্ধার করে সাত দিনের মধ্যে আগের জায়গায় প্রতিস্থাপন, লুটের ঘটনার জড়িতদের তালিকা দুই মাসের মধ্যে হলফনামা আকারে জমা দেওয়া, পাথর লুটের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষতি হলো, তা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন এবং ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গতকাল হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে দায়ী ব্যক্তিদের তালিকা ও ক্ষতির আর্থিক পরিমাণের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এখন যেহেতু তালিকা দাখিল করা হয়নি এবং সম্পূর্ণ পাথর নির্দেশনা অনুসারে প্রতিস্থাপিত হয়নি তাই প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ। তিনি বলেন, শুনানি শেষে আদালত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে।
খনিজসম্পদ সচিব ও পরিবেশ সচিবের পক্ষে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলাগঞ্জে পাথর লুটের ঘটনায় খনিজসম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং বিধিমালা ২০১২ এর ৯৩ (১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২০০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জে থানায় সংশ্লিষ্ট আইন ও দণ্ডবিধির ধারায় মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গেজেটভুক্ত ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি থেকে অজ্ঞাতনামা ১৫০০ থেকে ২০০০ ব্যক্তি পাথর চুরি করে নিয়ে যায়। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পরিবেশগত আর্থিক ক্ষতি নিরসনের জন্য গত ২১ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে বুয়েটের একজন অধ্যাপকসহ ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাথর প্রতিস্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ভোলাগঞ্জের পাথর কোয়ারি এলাকা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।