ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় পদচ্যুত হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। গতকাল শুক্রবার এ সংক্রান্ত এক আদেশ দেয় দেশটির সাংবিধানিক আদালত। রায়ে বলা হয়, পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার বিতর্কিত ফোনকলটি নীতিগত লঙ্ঘনের শামিল। এর আগে, একই অভিযোগে রায় না হওয়া পর্যন্ত পেতংতার্নকে বরখাস্ত করেছিল থাইল্যান্ডের আদালত। সিএনএন বলছে, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে গত ১৫ জুন কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনের সঙ্গে তার ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা ভালোভাবে নেয়নি থাইল্যান্ডের মানুষ। ফোনালাপে কম্বোডিয়ার প্রতি নমনীয় আচরণ ও দেশটির সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণœ হয়েছে বলে দাবি তাদের। যদিও পেতংতার্নের দাবি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সেই ফোনকল করেছিলেন তিনি।
আদালতের মতে, পেতংতার্ন জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দেশের সুনাম ক্ষুণœ করেছেন। রায়ে ৬-৩ ভোটে তার পদচ্যুতি হয়। পেতংতার্ন ২০২৪ সালের আগস্টে দেশটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পরই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন তিনি। সদ্য সাবেক এ নারী থাই রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে। পদচ্যুত হওয়ার আগে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ফাঁস হওয়া ফোনালাপে ভুল করেছিলেন। তবে তার দাবি ছিল তিনি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে দেশটির পার্লামেন্ট। তবে তা কতদিন সময় নেবে তা অনিশ্চিত। পেতংতার্নের দল ফিউ থাই (পেউ থাই) সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে হিমশিম খেতে পারে। দলটির জোটও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
এ রায় থাইল্যান্ডের সিনাওয়াত্রা পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; এটি দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার সূচনাও করতে পারে। নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত উপপ্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই ও মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা সরকার চালাবেন। আপাতত ৫ জনকে পেতংতার্নের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার মধ্যে আছে ফেউ থাইয়ের ৭৭ বছর বয়সী চাইকাসেম নিতিসিরি।