আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অনশন কর্মসূচি পালন করে আলোচিত হওয়া মহিউদ্দিন রনি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।
প্রার্থিতা ঘোষণা করে রনি বলেন, আমাদের অনেক অভিযোগ ও অপ্রাপ্তির জায়গা আছে। সেখানে ডাকসু আমাদের জন্য একটি সম্ভাবনার দুয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এত ঋণ পূরণ করার এখন সময় এসেছে। সবার ম্যান্ডেট নিয়ে সংকট নিরসনে কাজ করে যেতে চাই।
ঢাবি প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন হিসেবে প্রশাসন কীটপতঙ্গের মতো জীবনযাপন উপহার দিয়েছে। এখনো শতভাগ আবাসন নিশ্চিত হয়নি। স্বাধীনতার পর সবাই দলীয় স্বার্থ হাসিল করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কাজ হয়নি। কিছুদিন আগে আবাসিক শিক্ষার্থী লিজার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে রনি বলেন, যদি আগে থেকেই তার রোগ ধরা পড়ত এবং চিকিৎসাসুবিধা থাকত, তবে হয়তো সে বেঁচে যেত। নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে হেনস্তা ও ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এমন বিশ্ববিদ্যালয় কি আমাদের কাম্য ছিল?
ফের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আবিদের বিরুদ্ধে
আবারও আচরণবিধি ভঙ্গ করে রাত ১২টার পর প্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে শেখ মুজিবুর রহমান হলে তাকে প্রচার চালাতে দেখা যায়। রাত ১২টা ২০ মিনিটে এক শিক্ষার্থীর রুমে ছবি তুলেন তিনি। এ ছাড়া, রাত সাড়ে বারোটার পর তাকে অতিথি কক্ষেও অবস্থান করতে দেখা যায়, যেখানে ছাত্রদলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে রাত ১টার দিকে আবাসিক হলে প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন বলেন, আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।
অনলাইনে প্রোপাগান্ডা বিষয়ে সুরাহা পাইনি : আবিদুল
ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততটাই প্রার্থীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের সম্পর্কে অনলাইনে মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন মাধ্যমে নানা ধরনের অপচেষ্টা চলানো হচ্ছে। এসব প্রোপাগান্ডার ব্যাপারে আমরা অভিযোগ দিয়েছি, সেই বিষয়ে কোনো সুরাহা আমরা পাইনি। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিজয় একাত্তর হলের সামনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একজনের আইডি হ্যাক করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। আমরা কোনো অভিযোগ দিতে চাই না, অভিযোগের দিকে যেতে চাই না। আমরা একটি সুন্দর সুষ্ঠু একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। আমরা সম্মিলিতভাবে সেই পথেই হাঁটছি। আমরা যদি কোনো অপরাধ বা ভুল করে থাকি আমরা ওপেন আছি। আমরা আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর জন্য ২৪/৭ প্রস্তুত আছি।
ট্যাগিং পলিটিক্সে কণ্ঠরোধ সম্ভব নয় : ফরহাদ
ঢাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জিএস প্রার্থী এসএম ফরহাদ বলেছেন, ট্যাগিং পলিটিক্স করে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন শিক্ষার্থীরাই। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিকে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্ন যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। কে প্রশ্ন করেছেন সেটির চেয়ে কী বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, সেটিই মুখ্য বিষয় হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত উন্মুক্ত টকশোতে এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল মনোনীত এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ তাকে ‘শিবির ট্যাগ’ দেন।
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট নিয়ে শঙ্কা : হামিম
ডাকসু নির্বাচনে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস প্রার্থী তানভীর বারি হামিম। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হল আইডি কার্ড নবায়নের শর্ত অনেক অনাবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচনের মাত্র দশ দিন আগে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যা পূরণ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, পেইন স্লিপ, স্মার্ট আইডি কার্ড অথবা লাইব্রেরি কার্ড দিয়েই ভোটদানের সুযোগ দেওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে ডাকসু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। একে ব্যাহত করা মানে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি : বিন ইয়ামীন মোল্লা
ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী বিন ইয়ামীন মোল্লা বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সমান মাঠ তৈরি করতে না পারে, তাহলে প্রভাবশালীদের ভিপি, জিএস, এজিএস ঘোষণা করে দিলেই হতো। শিক্ষার্থীরা পাতানো ম্যাচ খেলতে আসেনি, তারা প্রকৃত বন্ধু খুঁজে নেবে। গতকাল বিকেলে মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফেস্টুন ঝোলানোতে বৈষম্য করা হয়েছে। আমাদের ফেস্টুন ঝোলাতে দেওয়া হয়নি, অথচ অন্যদের ঝুলিয়ে পরে সরানো হয়েছে। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা যদি নির্বাচিত হই, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স বাস্তবায়নে কাজ করব।