সহাবস্থানের গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ে তুলব

ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইয়াসিন আরাফাত। নির্বাচন নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাবি প্রতিনিধি এইচ এম খালিদ হাসান।

দেশ রূপান্তর : নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত পরিবেশ কেমন দেখছেন?

ইয়াসিন আরাফাত : আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত ভালো পরিবেশ দেখছি। তবে আমরা দেখছি শিক্ষকরা কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। যেমন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম পাঠকক্ষে ঢুকে প্রচারণা করেছেন। তাছাড়া শিবিরসহ অন্য প্রার্থীরাও প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভাঙলেও নির্বাচন কমিশনের কোনো শক্ত হস্তক্ষেপ ছিল না। শিবিরের ব্যানারে প্রার্থীদের ছবি বিকৃতি করা হলেও ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন। এমন অবস্থায় তারা কতটা স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবেন এ জায়গায় একটি শঙ্কা রয়ে গেছে। আমরা চাই শিক্ষকরা আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করুন।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষার্থীদের থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

ইয়াসিন আরাফাত : আলহামদুলিল্লাহ ভালোই সাড়া পাচ্ছি। আমরা ২০১৯ সালেও পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে নির্বাচন করেছিলাম। তাছাড়া বিগত দিনগুলোতে আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছি। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের নতুন করে পরিচিত করানোর প্রয়োজন নেই।

দেশ রূপান্তর : আপনাদের প্যানেলে দলের বাইরের শিক্ষার্থীরা কতটা যুক্ত হয়েছেন? নিজেদের প্যানেলকে গতানুগতিক নাকি ইনক্লুসিভ মনে করেন?

ইয়াসিন আরাফাত : আমাদের প্যানেলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ছাড়াও বাইরের শিক্ষার্থীরা যুক্ত আছেন। আমরা চেয়েছিলাম, ইসলামি সমমনা দলগুলোর সমন্বয়ে একটি প্যানেল ঘোষণা করতে। এ নিয়ে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের দলে ছাত্র মজলিস, তাবলিগের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীও আছেন। তাছাড়া, তিনজন নারী শিক্ষার্থী ও একজন ফিজিক্যাল ডিজঅর্ডার শিক্ষার্থী যুক্ত আছেন যিনি অন্ধ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেন। সব মিলিয়ে আমরা একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল গঠনের চেষ্টা করেছি।

দেশ রূপান্তর : আপনাদের প্যানেল নিয়ে তেমন আলোড়ন তৈরি হচ্ছে না কেন?

ইয়াসিন আরাফাত : আমাদের দেশে ছাত্রদল-শিবির বড় সংগঠন হওয়ায় মিডিয়াগুলো তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কাভারেজ দেয়। ফলে আমাদের বিষয়গুলো সামনে আসে কম। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আলোড়ন উঠছে না এমন নয়, আলহামদুলিল্লাহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমাদের বিষয়গুলোও আলোচিত হচ্ছে। 

দেশ রূপান্তর : প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছে। প্রশাসন কি কাউকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করেন?

ইয়াসিন আরাফাত : আমরা সন্দিহান, প্রশাসন আসলেই নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন কি না। কারণ বিগত দিনগুলোতে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, জিএস তানভীর বারী হামিম, শিবিরের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী উমামা ফাতেমা এরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এসব নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এই নির্বাচনের পর দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেও তারা কীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে।

দেশ রূপান্তর : ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচ কি সংগঠন বহন করছে, নাকি ব্যক্তি উদ্যোগে?

ইয়াসিন আরাফাত : নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয়ের বেশিরভাগ আমরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেরাই বহন করছি। এর বাইরে সংগঠন থেকেও সামান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সাবেক নেতারা ও শুভাকাক্সক্ষীরা আর্থিকভাবে সাহায্য করছেন।

দেশ রূপান্তর : জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটা আশাবাদী?

ইয়াসিন আরাফাত : আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আশাবাদী। যেহেতু আমরা পূর্বে ডাকসু করেছি, সবসময় প্রত্যক্ষভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। আমরা গুপ্ত সংগঠনের দ্বারস্থ না হয়ে নিজেদের সামনে রেখেছি। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক ধারণা বা অপরাধের রেকর্ড নেই। সে হিসেবে আমরা মনে করি, আমাদের প্যানেল বিজয় নিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষার্থীরা কেন আপনাকে ভোট দেবে?

ইয়াসিন আরাফাত : ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বিগত দিনগুলোতে এমন কাজ করেছে যা অন্যরা করতে পারেনি। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে নারী শিক্ষার্থীদের পাঠানোর বিষয়টি সর্বপ্রথম আমরা সামনে এনে আন্দোলন করেছি। গেস্টরুম-গণরুমের প্রতিবাদে সর্বদা সোচ্চার থেকেছি। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের বিরুদ্ধেও আমরা ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেছি। শিক্ষার্থীরা সবসময় আমাদের পাশে পেয়েছে, আমাদের কাজগুলো দেখেছে। আমরা ১৯৭১, ১৯৫২, ১৯৪৭, ২০২৪-সহ সব সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করি। তবে কখনো চেতনার ব্যবসা করি না। আমাদের ফ্রেশ ইমেজ, স্বচ্ছতা রয়েছে। আমরা সুদ, ঘুষ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলাম না। এসব বিবেচনায় আমরা মনে করি শিক্ষার্থীরা আমাদের ভোট দেবে।

দেশ রূপান্তর : জয়ী হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী করবেন?

ইয়াসিন আরাফাত : ২০২৪-এর বড় চেতনা ছিল ঐক্যবদ্ধ থাকা। আমরা ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হলে সেই চেতনাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, সহানুভূতিশীল ও সহাবস্থানের গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ে তুলব। প্রতি বছর নিয়মিত ডাকসু আয়োজনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক চর্চা থেকে বের করে একটি অ্যাকাডেমিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করব।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

ইয়াসিন আরাফাত : দেশ রূপান্তরকেও ধন্যবাদ।