১৫ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর বিএসএফের

ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর ক্যাম্পে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণকৃত নারী ও শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।

বিজিবির বরাত দিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক জানান, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবি আটককৃতদের সাতক্ষীরা সদর থানায় পুলিশে সোপর্দ করে।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার আবুল কাশেম ও ভারতের বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর দিবাজ্যোতি ডলিসহ বিজিবি এবং বিএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের বাড়ি সাতক্ষীরা, খুলনা ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে।

বিজিবির বরাতে ওসি শামিনুল আরও বলেন, অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের দায়ে গত মঙ্গলবার রাতে হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। আটকের দুদিন পর বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর দিবাজ্যোতি ডলি এবং বিজিবির তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবির একটি টহলদল আটককৃতদের সাতক্ষীরা সদর থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবুল কাশেম বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে রাত ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ গাজী বাদে বাকি সবাইকে তাদের পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ হেফাজতে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ গাজী জানান, প্রায় ১৬ মাস আগে বৈকারী সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। তিনি কোলকাতার নিউটাউন-রাজারহাট এলাকার মোল্লাপাড়ায় থেকে দিনমজুরির কাজ করতেন। বাকিরা সবাই নিউটাউন-রাজারহাট এলাকার বিভিন্ন জায়গায় থাকত। সম্প্রতি সময়ে ভারতীয় পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করায় তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা স্বেচ্ছায় বিএসএফ হাকিমপুর ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ক্যাম্পে দুদিন আটকে রাখার পর বৃহস্পতিবার রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে বিজিবি তাদের সদর থানায় পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

নেত্রকোনায় সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় পাঁচজন আটক : নেত্রকোনার কলমাকান্দার গোবিন্দপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় পাঁচজনকে আটক করেছে বিজিবি। এদের মধ্যে তিনজনকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আটকের পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে কলমাকান্দার কচুগড়া সীমান্ত দিয়ে আটককৃতদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। আটককৃতরা হলো নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আন্দাদিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আলম মিয়া (২০), একই এলাকার অটোরিকশা চালক ইমন (২০) এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা সদরের হারুণ মিয়ার ছেলে মোনাইস ইসলাম (১৯)।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে কলমাকান্দার গোবিন্দপুর বলমাঠ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় দুজনকে আটক করে কচুগড়া বিওপির সদস্যরা।

এরা হলো জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইন ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জুবায়ের হোসেন (১৯) ও নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিক্রমশী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে রমজান আহমেদ (১৯)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলমাকান্দার খারনৈ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বলমাঠের মেইন পিলার নং-১১৭৮ /৪-এস সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের খবরে অভিযান চালায় বিজিবির একটি টহল দল। এই সময় বিজিবির উপস্থিতিতে তিনজন ভারতে পালিয়ে গেলেও দুজনকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা।

এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে কলমাকান্দা থানায় আটককৃত রমজান আহমেদ ও জুবায়ের হোসেনকে হস্তান্তর করে কচুগড়া বিওপির হাবিলদার মো. তোফায়েল হোসেন বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ পাঁচজনকে আসামি করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে একটি মামলা দায়ের করে। এদিকে মামলা দায়ের পর পালিয়ে যাওয়া তিনজনকেও কলমাকান্দা থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি সদস্যরা। এ ব্যাপারে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় বিজিবি সদস্যরা দুই ধাপে মোট পাঁচজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন ৩১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল এএসএম কামরুজ্জামান জানান, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিজিবি সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে আটক করে। এবং বিএসএফ আরও তিনজনকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা মোট পাঁচজনকেই কলমাকান্দা থানায় সোপর্দ করেছি।