রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

ইউরোপীয়দের ভূমিকা স্পষ্ট করার তাগিদ জেলেনস্কির

তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বেশ কয়েকবার শান্তিচুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও, রাশিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সেসব উদ্যোগ আলোচনার টেবিলেই রয়ে গেছে। এমন অবস্থায় ইউরোপীয় নেতাদের নিজেদের ভূমিকা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডে ইউরোপীয় নেতাদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে জেলেনস্কি এ আহ্বান জানান। এতে অংশ নেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভ্রৎসকি এবং এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ডেনমার্কের নেতারা। এ সময় জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার দেশের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কী হবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা এখন খুব জরুরি। বৈঠকের ঠিক আগে বুধবার রাতে রাশিয়ার এক হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ২২ জন নিহত হন।

জেলেনস্কি বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা রাশিয়ার ওপর আরও চাপ তৈরির বিষয়ে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছেন। বৈঠকে জেলেনস্কির করা মন্তব্যগুলো তার প্রেসিডেনশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, যখন আমরা নিরাপত্তার নিশ্চয়তার কথা বলি, তখন দরকার পরিষ্কার জবাব রাশিয়া আবার আক্রমণ করলে স্থলে, আকাশে আর সাগরে আমাদের প্রতিরক্ষায় কারা এগিয়ে আসবে, কীভাবে অংশ নেবে? দয়া করে আপনারা নিজেদের ভূমিকা স্পষ্ট করুন। সেই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে ইউরোপীয়দের একসঙ্গে কাজ করার প্রচেষ্টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প যেন নজর দেন, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে অবশ্যই ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনায় বসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের পর বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তিনি। ভন ডার লিয়েন এক বার্তায় বলেন, কিয়েভে ভয়াবহ হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললাম। আমাদের ইইউর কার্যালয়ও এ হামলার শিকার হয়েছে। পুতিনকে আলোচনায় আসতেই হবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে ন্যায়সংগত ও স্থায়ীভাবে শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। এতে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মাধ্যমে দেশটি নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনোভকে তলব করা হয়েছে। এ সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনোরকম উসকানি ছাড়া অন্যায়ভাবে ইউক্রেনে আক্রমণের অভিযোগ করেন তিনি।