রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছার দাবি পুতিনের

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। গত রবিবার চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। পুতিন বলেন, আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে, তা শান্তির পথে এগোচ্ছে বলে আমি আশা করি। তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি পুতিন। সোমবারের মধ্যে তার প্রতিক্রিয়া জানাতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, আলাস্কা বৈঠকে পুতিন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে সম্মত হয়েছেন। এটি ভবিষ্যতে একটি শান্তিচুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে মস্কো এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পুতিন তার বক্তব্যে আবারও পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর যুদ্ধের দায় চাপান। তিনি বলেন এই সংকট রাশিয়ার হামলা থেকে শুরু হয়নি, বরং পশ্চিমা প্ররোচনায় ইউক্রেনে যে অভ্যুত্থান ঘটেছিল। চীন ও ভারতের প্রশংসা করে পুতিন বলেন, দুই দেশই ইউক্রেন সংকট সমাধানে সহায়তার চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এখনো চলমান। গত সপ্তাহে মস্কো এক দিনে ৬২৯টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যাতে ২৩ জন নিহত হয়। ইউরোপীয় নেতারা এটিকে যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে পুতিন সাড়া না দিলে তা প্রমাণ করবে যে রুশ প্রেসিডেন্ট আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে নিয়ে খেলছেন। তবে ট্রাম্প সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি পুতিনকে আরও কিছু সময় দেবেন। যদিও ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, তিনি এক দিনে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। সম্প্রতি তিনি যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ী শান্তিচুক্তির পক্ষে মত দেন। ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পক্ষে নন ট্রাম্পও।