আফগানিস্তানে ভূমিকম্প

চ্যালেঞ্জে উদ্ধার তৎপরতা, মৃত্যু বেড়ে ১৪১১

আফগানিস্তানের কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন হাজারের বেশি। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪১১ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২৫১ জন আহত এবং ৮ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারেন। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সমন্বয়ক বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম এলাকা উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। সাহায্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের জন্য দুর্গত এলাকায় তালেবান সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে পূর্ব আফগানিস্তানে রবিবার গভীর রাতে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুনার ও নানগারহার প্রদেশ। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান এহসানুল্লাহ এহসান জানান, গত সোমবার কুনারের চারটি গ্রামে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এখন আরও দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কত মানুষ আটকা পড়ে আছেন তা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারছি না আমরা। আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এসব অভিযান সম্পন্ন করে তারপর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া শুরু করা। এহসান জানান, সরু একটি পাহাড়ি রাস্তায় আবর্জনা পড়ে থাকায় গাড়িগুলো সেটি ব্যবহার করতে পারছে না, ত্রাণ কাজ শুরু করতে এটিই প্রধান বাধা। রাস্তাটি পরিষ্কার করতে মেশিনপত্র আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার ওই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটিতে অ্যাম্বুলেন্সের একটি লাইন দেখা গেছে, সেগুলো কুনারের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। ওইসব গ্রাম থেকে আহতদের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে, যাওয়ার সময় সেগুলোতে করে ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে।

এ ভূমিকম্পে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, চলতে থাকা পরাঘাত, অনেক গ্রামের দূরবর্তী অবস্থান ত্রাণ সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল সতর্ক করে বলেছে, দুর্গত এলাকাগুলোর হাজার হাজার শিশু ঝুঁকিতে আছে। আফগানিস্তান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ, কারণ দেশটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশ কয়েকটি ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। ২০২২ সালে পূর্ব আফগানিস্তানে ৫.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ১ হাজার মানুষ নিহত এবং ৩ হাজার আহত হন। এটি গত দুই দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই ভূমিকম্প মাঝারি মাত্রার হলেও ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হওয়ায় অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ছিল। রবিবারের ভূমিকম্পটির গভীরতা আরও কম, মাত্র ৮ কিলোমিটার। এ কারণে বিপুল পরিমাণ মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।