ভারতের জন্য জ্বালানি তেল ক্রয়ে বিশেষ ছাড় প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ও অক্টোবরে ব্যারেলপ্রতি তিন থেকে চার ডলার কমে রুশ উরালস গ্রেড তেল (জ্বালানির বিশেষ মিশ্রণ) কিনতে পারবে নয়াদিল্লি। ফলে, রুশ জ্বালানি ক্রয় নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন মোড় নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। আগস্টের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে রুশ জ্বালানি ক্রয়ে সাময়িক বিরতি দিলেও ভারতীয় রিফাইনারিগুলো আমদানি অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার উরালস ক্রুড তেল প্রতি ব্যারেলে আড়াই ডলার ছাড় প্রস্তাব করা হয়, যা জুলাইয়ে ছিল এক ডলার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দাম রিফাইনারিদের কাছে প্রায় তিন ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। রাশিয়ার তেল কিনে পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়নের অভিযোগে ভারতীয় পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পূর্বে আরোপিত অন্য শুল্কের সঙ্গে গত সপ্তাহে যখন এটি জারি হয়, ভারতের ওপর শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। অবশ্য, এরপরও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দিল্লি। বরং ওয়াশিংটনের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে দিল্লির সঙ্গে মস্কো এবং বেইজিংয়ের আঁতাত আরও গাঢ় হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। সম্প্রতি চীনে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশন বা এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দিল্লি-মস্কোর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া, তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক অংশীদার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ভারত রাশিয়া থেকে ছাড়ের দামে তেল আমদানি করার পাশাপাশি দেশটি থেকে আরও এস-৪০০ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও পাবে। রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার ফেডারেল সার্ভিস ফর মিলিটারি-টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি আরেকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এস-৪০০ সিস্টেমের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য মস্কো এবং নয়াদিল্লি আলোচনা করছে এবং রাশিয়া ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে শেষ দুটি ইউনিট ভারতে সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে পাঁচটি ইউনিটের জন্য ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি সরবরাহ করা হয়েছে।