সহযোগীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তে বিপাকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

আবারও নতুন রাজনৈতিক সংকটের মুখে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর পদত্যাগের ডাক ওঠার মুখে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা এবার বিপাকে পড়েছেন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তে। গত মঙ্গলবার ইশিবার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব হিরোশি মোরিয়ামা পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। এলডিপির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদেরকে মোরিয়ামা বলেন, গত ২০ জুলাইয়ে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করবেন তিনি।

তবে এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি প্রধানমন্ত্রীকেই দিয়েছেন। সাংবাদিকদের মোরিয়ামা বলেন, আমি পদ ছাড়তে চাই, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইশিবা নেবেন। মঙ্গলবার দলীয় বৈঠকে পার্লামেন্টের দুই কক্ষের সদস্যদের উপস্থিতিতে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়ে আলোচনা করেছে এলডিপি। এরপর দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জুলাইয়ের নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বিরোধীদের পদত্যাগের দাবি অগ্রাহ্য করে আসছেন। গত মঙ্গলবার তিনি আবারও বলেছেন, আপাতত পদ ছাড়ার কোনা ইচ্ছা তার নেই। তাছাড়া, নির্বাচনে পরাজয়ের দায় কীভাবে নিতে হবে সে বিষয়ে সঠিক সময়েই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান ইশিবা। পাশাপাশি মোরিয়ামার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়েও তিনি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

ইশিবা সাংবাদিকদের বলেন, দলের সামনে তাৎক্ষণিভাবে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করাটাই এক ধরনের দায়িত্ব পালন। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে যারা ভোগান্তিতে আছে তাদের জন্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাঙ্কেই সংবাদপত্র জানিয়েছে, ইশিবা এই সপ্তাহেই মন্ত্রিপরিষদকে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব কাটাতে একটি অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির নির্দেশ দিতে পারেন।