পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলকে আমিরাতের হুঁশিয়ারি

অধিকৃত পশ্চিম তীরকে পুরোপুরি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলে তা চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘনের শামিল হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি বলছে, এ পদক্ষেপ ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মূল চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, যার মাধ্যমে ইসরায়েল ও ইউএইর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জনানো হয়। আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ বলেছেন, ইসরায়েলের এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেবে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরের প্রায় চার-পঞ্চমাংশকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করার পরই আরব আমিরাত এ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করল।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ হলেও ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি স্থাপন করেছে। ফিলিস্তিন ওই অঞ্চলকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখে। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি এবং ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে ইউএই, বাহরাইন ও মরক্কো পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ওই চুক্তির একটি অন্যতম শর্ত ছিল, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের কিছু অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবেন। লানা নুসেইবেহ বলেন, শুরু থেকেই আমরা আব্রাহাম চুক্তিকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা ও তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈধ আকাক্সক্ষার পক্ষে একটি কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখেছি। পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত ইউএইর জন্য চরম সীমা লঙ্ঘনের শামিল হবে। আরব আমিরাতের এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষ (পিএ)। তবে ইসরায়েলি সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে দুদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন। তিনি এ অনুষ্ঠানকে একটি ‘ট্রাইব্যুনাল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, এর লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানসেস্কা আলবানিজের। তার পাশাপাশি গাজায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা চিকিৎসক, ত্রাণকর্মী, বিশেষজ্ঞ এবং যুদ্ধের বেঁচে যাওয়া মানুষরাও থাকবেন। আয়োজকরা জানান, লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বারগন এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও এ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাট কেনার্ড, যিনি গাজার আকাশে যুক্তরাজ্যের নজরদারি ফ্লাইটগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। বৃহস্পতি ও শুক্রবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের চার্চ হাউজে এ অনুষ্ঠান হবে। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্যানেল আলোচনায় যোগ দেবেন, যেখানে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের আইনি দায়িত্ব।