কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল যাতে হতে না পারে সেজন্য রাজধানীর সব থানায় কড়া নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে ডিএমপি সদর দপ্তর। বিশেষ করে সম্প্রতি ধানমন্ডি ও বনানীতে ঝটিকা মিছিলের পর আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের। মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশের প্যাট্রলিং, গোয়েন্দা নজরদারি ও চেকপোস্ট জোরদারের কথা জানানো হয়।
এরপরও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এই ঝটিকা মিছিল। আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে সম্প্রতি সময়ের মিছিলগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। যা আওয়ামী লীগকে গোপনে সংগঠিত হয়ে নাশকতা করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবশেষ গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো এলাকায় ‘ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের’ ব্যানারে সম্প্রতি সময়ের সবচেয়ে বড় মিছিল বের করা হয়। কয়েক’শ নেতাকর্মী নাবিস্কো থেকে মিছিল করতে করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিব্বত এলাকার দিকে চলে যায়। একইদিন সকালে একই থানা এলাকার জিএমি মোড় থেকে কিছু লোকজন মিছিল করতে গেলে রুখে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ। তখন তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের নিয়ামুল হাসান নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। আর দুপুরের মিছিলের ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, ধানমন্ডি এলাকায় আবারও গতকাল কয়েক শত নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি থানা-পুলিশ। তবে মিছিলের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ তারা পেয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ হাজারখানেক লোক ‘শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’; ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’; ‘হটাও ইউনূস, বাঁচাও দেশ’-এসব স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা তিব্বত এলাকার দিকে গিয়ে সটকে পড়ে। এ সময় ব্যানরে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ লেখা ছিল। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, ঘরে বসে থাকলেও বাঁচার সুযোগ নেই, তাহলে আর ঘরে থেকে লাভ কী, এই জন্য মিছিলের নির্দেশ পেয়ে লোকজন নিয়ে নেমে পড়ছি। তারা আরও বলেন, শেখ হাসিনাসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এর প্রতিবাদে মিছিল করছি।
আওয়ামী লীগের মিছিল করার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, গতকাল সকালে জিএমি মোড় থেকে কিছু লোকজন বের হয়েছিল, আমরা মিছিল করতে দিইনি। তখন তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের নিয়ামুল হাসান নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। আর দুপুরে আওয়ামী লীগের লোকজন নাবিস্কো থেকে আবারও বের হয়েছে, আমরা তাদের ধরেছি। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে সকালের মিছিল আটকাতে পেরেছি। দুপুরের মিছিলটা ৩ মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল। মিছিলকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কয়েক শত নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, অনেকে আমাকে মিছিলের ছবি পাঠাচ্ছে, আমরা এখনো নিশ্চিত নই, খবর নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ রাজধানীর বনানী ফ্লাইওভার এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে। এর আগে গত ৩১ আগস্ট ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডে রাপা প্লাজাসংলগ্ন রাস্তা থেকে শংকরের বাংলাদেশ আই হসপিটালের সামনের সড়ক পর্যন্ত মিছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরও সপ্তাহখানেক আগে গুলিস্তানের বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মীকে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। শুধু এই ঘটনাগুলোই নয় মাঝেমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর আসে। মিছিলে অংশ নেওয়া অভিযোগে অনেককেই গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে নিয়মিত।