আফগানিস্তানে ফের ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ২২০০

আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে গত বৃহস্পতিবার আবারও ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবারের পর থেকে একই অঞ্চলে এটি তৃতীয় ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র। নাঙ্গারহার প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র নকিবুল্লাহ রাহিমি জানান, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল পাকিস্তানের সীমান্তের কাছে অবস্থিত দূরবর্তী শিউয়া জেলায়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বারকাশকট এলাকায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫৬ মিনিটে দেশটির দক্ষিণপূর্বে তৃতীয় এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটি ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীরে সংঘটিত হয়েছিল। এর আগে কুনার ও নাঙ্গারহার প্রদেশে দুই দফা ভূমিকম্পের মুখে পড়া আফগানদের পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলেছে। গত রবিবার দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। বেঁচে থাকা মানুষরা আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে এবং সহায়তা সংস্থাগুলো সীমিত সম্পদের দিকে সতর্ক করছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী এবং আশ্রয়ের জন্য জরুরি প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেছে। এরই মধ্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫ কোটি ইউয়ান জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। চীনের সহায়তা প্যাকেজে থাকবে জরুরি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তাঁবু, কম্বল ও খাবারসহ নানা সরঞ্জাম। আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, ৩১ আগস্ট রাতে আঘাত হানা ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২০৫ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৬৪০ জন আহত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৮৪ হাজার মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ আটকা থাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। ইউনিসেফ স্থানীয় অংশীদার ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।