তাইওয়ান প্রণালিতে কানাডা অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধজাহাজ

তাইওয়ান উপকূল দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার দুটি যুদ্ধজাহাজের চলাচলকে ‘উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়েছে চীন। গত শনিবার দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, তারা কানাডার ফ্রিগেট ভিল দ্য কুইবেক ও অস্ট্রেলিয়ার গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ব্রিসবেনের ওপর নজরদারি চালিয়েছে এবং সতর্কবার্তা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপ সমস্যা সৃষ্টির দিকে ধাবিত করছে এবং এটি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পিএলএ ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র শি ই বলেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালিতে প্রবেশ করে ওই এলাকায় নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, পিএলএ ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের নৌ ও বিমানবাহিনী এ যুদ্ধজাহাজগুলোর যাত্রাপথ ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করেছে এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করেছে। শি ই আরও বলেন, চীনা সেনাবাহিনী জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সবসময় প্রস্তুত এবং এসব ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

কানাডার সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে মোতায়েন করা জাহাজগুলোর চলাচল পরিকল্পনা নিয়ে তারা মন্তব্য করতে রাজি না। তবে তিনি জানান, ভিল দ্য কুইবেক বর্তমানে অপারেশন হরাইজনের অংশ হিসেবে ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে কাজ করছে। এর আগে জাহাজটি ফিলিপাইনের অর্থনৈতিক এলাকায় নৌ-অভিযানে অংশ নেয়। অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য আসেনি। এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রণালিতে সবসময় সতর্ক নজর রাখছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করছে। তাইওয়ান মনে করে, এ জলপথ একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ প্রায় মাসে একবার এই প্রণালি অতিক্রম করে থাকে। তবে চীন দাবি করে, এটি তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক জলসীমা।