আফ্রিকার আকাশে ইতিহাস রচনা করল চীন। প্রথমবারের মতো এর আকাশে উড়ল চীনে তৈরি স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক উড়ুন্ত ট্যাক্সি। এই উড্ডয়ন শুধু প্রযুক্তিগত প্রদর্শনী নয়, বরং চীনের নতুন প্রজন্মের স্বল্প উচ্চতার বিমান প্রযুক্তির প্রতি বিশ্ব জুড়ে বাড়তে থাকা আগ্রহেরই প্রতিচ্ছবি। গুয়াংজুভিত্তিক নাসডাক তালিকাভুক্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ইহ্যাং হোল্ডিংস’ তৈরি করেছে এই চালকবিহীন বৈদ্যুতিক উড্ডয়ন ও অবতরণযান। রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাভিয়েশন আফ্রিকা সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশন’-এ প্রদর্শনী হিসেবে এটি আকাশে ওড়ে। ৩৪টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশে নজর কাড়ে ভবিষ্যতের এই উড়ন্ত ট্যাক্সি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, রুয়ান্ডা সরকার ও চীনের রাষ্ট্রীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’-এর অংশীদারত্বে এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি সম্পন্ন হয়। আধুনিক পর্যটনে দ্রুত অগ্রসরমাণ রুয়ান্ডা শহুরে যানজট ও বায়ুদূষণ কমাতে আকাশপথকে নতুন সমাধান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। চীন ইতিমধ্যেই লো-অলটিচিউড অ্যাভিয়েশনকে (স্বল্প উচ্চতার বিমান চলাচল) ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। কয়েক বছর ধরে দেশটি এই খাতের জন্য নীতিগত সুবিধা দিয়ে আসছে। এয়ার ট্যাক্সি থেকে শুরু করে ডেলিভারি ড্রোন সবকিছুকেই বাণিজ্যিকভাবে ছাড়পত্র দেওয়ার পথে এগিয়ে চলছে দেশটি। চীনের সিভিল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাব অনুযায়ী, এই খাতের অর্থনৈতিক আকার এ বছর ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২১০ বিলিয়ন ডলার) ছুঁতে পারে।
শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ডানা মেলছে চীনের এয়ার ট্যাক্সি। জুলাই মাসেই থাইল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ৫০০টি বৈদ্যুতিক উড্ডয়ন যান কিনেছে। একই মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক ক্রেতা সাংহাই টি-ক্যাব টেকনোলজির তৈরি ৩৫০টি বিমানের জন্য স্বাক্ষর করেছে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। তবে আফ্রিকান বাজার চীনের জন্য সহজ হবে না বলে মনে করেন হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অধ্যাপক চেন ঝিউ। তার মতে, আফ্রিকার মানুষের গড় আয় কম হওয়ায় এটি তুলনামূলক কঠিন বাজার। তবু শিথিল নিয়মনীতির কারণে আফ্রিকার দেশগুলো নতুন প্রযুক্তির জন্য পরীক্ষাগার হয়ে উঠতে পারে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আফ্রিকা-চীন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বুলেলানি জিলি বলেন, আফ্রিকায় বাজার ধরতে চাইলে এই উড়ন্ত ট্যাক্সিকে সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়িনির্ভর বর্তমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, কারণ সেটিই এখনো অধিকাংশ আফ্রিকান পরিবারের প্রধান ভরসা। রুয়ান্ডার অবকাঠামো মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়া জানায়, এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইট দেশটির উন্নত আকাশ পরিবহন ব্যবস্থার জন্য নিরাপদ ও অগ্রগতিমুখী নিয়ন্ত্রক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।