সম্প্রতি পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনটি ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ৪৯টি গ্রামে মোট ৫ হাজার ২৩০টি বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ৭০০টি বাড়ি। তবে প্রত্যন্ত অনেক গ্রামে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত সোমবার আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের প্রধান কো-অর্ডিনেটর শ্যানন ও’হারা এপিকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে আরও দুর্গম হয়ে উঠেছে আফগানিস্তানের বন্ধুর পাহাড়ি রাস্তাগুলো। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪১টি গ্রামে পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ৫ দশমিক ২ থেকে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একাধিক আফটার শক পরিস্থিতি আরও শোচনীয় করে তুলেছে। জাতিসংঘের অনুমান, এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অর্ধেকের বেশিই শিশু। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও ইরান থেকে বিতাড়িত আফগানরাও।
ও’হারা জানান, জালালাবাদ থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে পৌঁছাতে তার সময় লেগেছে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। ভূমিকম্পের কারণে হওয়া ভূমিধসে বড় বড় পাথর পড়ে জায়গায় জায়গায় বন্ধ হয়ে আছে রাস্তা। এমন পরিস্থিতির কারণে ত্রাণসহায়তা নিয়ে আসা অনেক যানবাহনই দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। তিনি বলেন, আমরা যখন গাড়ি নিয়ে পাহাড়ি এলাকার ওপরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলাম, তখন দেখতে পাই পায়ে হেঁটে অনেকেই নিচে নামছে। হাতে করে যা বহন করা সম্ভব হচ্ছে, তাই নিয়ে যাচ্ছে তারা। অনেকের গায়ে সেই ভূমিকম্পের রাতে যে জামা পরনে ছিল, এখনো তাই রয়েছে। তিনি জানান, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের যত কাছে যান, ততই দেখতে পান পরিস্থিতি আরও খারাপ পুরো গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গবাদিপশুর মরদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বাস্তুচ্যুতরা গাদাগাদি করে এক তাঁবুর মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছে। ও’হারা আরও জানান, প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ খোলা স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করছেন। পানযোগ্য পরিষ্কার পানিও নেই। এরই মধ্যে সেখানে কলেরা মহামারী আকার ধারণ করেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।