ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা সিটির সব বাসিন্দাকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অভিযান জোরদারের পরিকল্পনার কারণে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র ‘সব এলাকার উপস্থিত ব্যক্তিদের’ মানবিক জোনে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে, ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ বলেছে, বন্দিদের যথেষ্ট পুষ্টি সরবরাহ করতে সরকার আইনগতভাবে বাধ্য। অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধের অবসানে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গাজা সিটিতে ‘প্রচণ্ড শক্তি’ দিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। সে লক্ষ্যে অবিলম্বে সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যদিও শহরটির ১০ লাখ ফিলিস্তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে এ আক্রমণের আশঙ্কা করছিল। তারপরও এ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ গাজার বৃহত্তম নগরকেন্দ্রের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের দক্ষিণে যেতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগই বক্তব্য, তারা থেকে যাবেন কারণ অন্য কোথাও নিরাপদ নয়। গত মাসে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজার সবচেয়ে জনবহুল শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এর আগে ইসরায়েল সতর্ক করেছিল যে, হামাস যদি জিম্মিদের মুক্তি না দেয়, তারা গাজায় সামরিক হামলা বাড়াবে। ৫৫ বছর বয়সী ছয় সন্তানের মা উম মোহাম্মদ বলেছেন, গত সপ্তাহের গোলাবর্ষণ সত্ত্বেও আমি সরে যেতে অস্বীকার করেছিলাম। কিন্তু এখন কী করব? ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় যেতে নির্দেশ দিয়েছে। ওই এলাকাকে তারা ‘মানবিক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, সরকার আইনগতভাবে বন্দিদের পুষ্টি সরবরাহ করতে বাধ্য। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, খাদ্যনীতির পরিবর্তনের কারণে বন্দিরা অপুষ্টি ও অনাহারে ভুগছেন। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস মামলাটি করেছিল। রায়ের পর তারা বলেছে, এ রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির অবশ্য আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের রক্ষা করার কোনো সুপ্রিম কোর্ট নেই। আমি আইনে অনুমোদিত ন্যূনতম শর্তই বন্দি সন্ত্রাসীদের জন্য প্রয়োগ করব।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ দেওয়ার পর গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজায় ইতিমধ্যে যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে; যদি হামাস তার নতুন প্রস্তাব মেনে না নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় মাসের পর মাস ধরে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে। কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন কিংবা কোনো জবাব দেননি। চুক্তি নিয়ে খুব কম তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের আগের পরিকল্পনার মতো, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ বলছে, এটি মূলত উইটকফের পরিকল্পনার নতুন সংস্করণ জিম্মি ও বন্দিবিনিময়ের পর যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনায় বসা। মূল পার্থক্য হলো, সব ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির পরও যুদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে থামবে না। এতে দেশটির হামলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে যাবে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য, হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করা। এ লক্ষ্য পরিমাপ করা কঠিন এবং ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, এর আড়ালে আসলে পুরো গাজাকেই ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।