প্লট দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো খায়রুল হককে

প্লট দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া তাকে গ্রেপ্তার দেখান। শুনানির একপর্যায়ে খায়রুল হক কথা বলতে আদালতের অনুমতি চান।

খায়রুল হক আদালতকে বলেন, ‘সবাই যেভাবে প্লটের জন্য (রাজউকে) আবেদন করে, আমিও সেভাবে করেছি। ২২-২৩ বছর আগের কথা, কারোরই মনে থাকার কথা না। সে সময় আমি লিখেছিলাম, আমার টাকা নেই। অবসর নেওয়ার পর টাকা দেব। টাকা না থাকা তো কোনো অপরাধ নয়। অবসর নেওয়ার পর যে টাকাটা বাকি ছিল, সব টাকা আমি পরিশোধ করি। এরপর আমাকে (প্লট) রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৮১ বছরের বেশি। দুই সপ্তাহ আগে হার্ট অ্যাটাক হয়। আমি অসুস্থ। এগুলো বিবেচনা করে যা করার করবেন।’

সাবেক এ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রানা প্লাজা ভবন ধসের যে ঘটনা ঘটেছিল, সে সময় আমাকে, সুলতানা কামালসহ তিনজনকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কমিশন গঠন করা হয়। আমাদের প্রতি মাসে বেতন ছিল সাড়ে ৯ হাজার ডলার। আমরা ১৮ মাস কাজ করেছিলাম। একটা টাকাও আমরা নিইনি। কেন নিইনি? চেয়েছিলাম এই দেড় কোটি টাকা রানা প্লাজায় যাদের ক্ষতি হয়েছে, তারা যেন পান।’ তিনি কোথাও কোনো সুবিধা নেননি বলে আদালতে দাবি করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৩ আগস্ট আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন খায়রুল হক। গত ২৪ জুলাই সকালে ধানম-ির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। প্লট নিয়ে মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর নায়েম রোডে প্রায় ১৮ কাঠা জমির ওপর ছয়তলা বাড়ি থাকার পরও তিনি খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থাকাবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা হলফনামা দাখিলের মাধ্যমে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্প থেকে ১০ কাঠা জমির একটি প্লট বরাদ্দ নেন।