ইস্তাম্বুলের জেলা মেয়রসহ ৪৮ জনকে আটকের নির্দেশ

তুরস্কের এক কৌঁসুলি দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে ইস্তাম্বুলের বায়রামপাসা জেলার মেয়রসহ ৪৮ সন্দেহভাজনকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি এ খবর দিয়েছে। ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলির দপ্তর থেকে জারি হওয়া তদন্ত নির্দেশে এই আটকাদেশের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের মূল কেন্দ্রে রয়েছে বায়রামপাশা পৌরসভা। আত্মসাৎ, ঘুষ লেনদেন ও টেন্ডার জালিয়াতিসহ দুর্নীতির নানা অভিযোগে সন্দেহভাজনদের ধরতে ও নথি জব্দে পুলিশ গতকাল ভোরে ৭২টি স্থানে তল্লাশিও চালিয়েছে বলেছে টিআরটি হাবের।

বায়রামপাসা জেলার মেয়র হাসান মুতলু তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) সদস্য। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি তার বিরুদ্ধে তদন্তকে ভিত্তিহীন অপপ্রচারের রাজনৈতিক অভিযান আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তার লুকানোর কিছু নেই। সিএইচপি এবং সিএইচপি পরিচালিত পৌরসভাগুলোতে প্রায় এক বছর ধরে চলা ‘ক্র্যাকডাউনের’ মধ্যে মুতলুসহ অন্যদের আটকের এ আদেশ এলো। দুর্নীতির নামে সরকারের অভিযানে দলটির কয়েকশ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইস্তাম্বুল মহানগরের মেয়র এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী একরেম ইমামোগলুও। ইমামোগলুর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে তুরস্কজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা দেয়। সিএইচপি দাবি করেছে, এই সব গ্রেপ্তার এবং দুর্নীতির অভিযোগ আসলে সরকারের একটি পরিকল্পিত অভিযান; যার উদ্দেশ্য বিরোধী দলকে দুর্বল করা এবং এরদোয়ানের জন্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করা। তবে সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারি তরফে বলা হয়েছে, তুরস্কের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন এবং তারা আইন অনুযায়ী কাজ করছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হতে চলেছে, যেখানে সিএইচপির ২০২৩ সালের কংগ্রেস বাতিলের বিষয়ে আদালত রায় দিতে পারে। যদি কংগ্রেস বাতিল হয়, তাহলে দলের নেতৃত্ব বদল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এবং সিএইচপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দিতে পারে। এ মামলাটিকে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থাকা নাজুক ভারসাম্যের জন্য পরীক্ষা বিবেচনা করা হচ্ছে। মামলার রায় সিএইচপির ওপর বড় ধরনের আইনি চাপও সৃষ্টি করতে পারে।