দুর্ভাগ্যবশত ভারতে ইলিশ পাঠাতে হয়েছে

অন্তর্র্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘ভারতের আগে দেশের মানুষ ইলিশ খাবে। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাদের বারবার অনুরোধের পর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধসংলগ্ন জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধিতে মৎস্যজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

উপদষ্টা বলেন, ‘এর আগেও একই কথা বলেছিলাম। তবে দুর্ভাগ্যবশত প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তাদের পাঠাতে হয়েছে।

তবে চাহিদার চেয়ে কম পাঠানো হয়েছে। এবার দাম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে।’

অবৈধ রিং জাল প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অভিযান শুধু জেলেদের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব রিং জাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতাদের কোনো ছাড় নেই।

এ সময় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুর রউফ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত হোসেনসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশি জাতের মুরগি রক্ষা করার আহ্বান প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য উপদেষ্টার : এদিকে নীলফামারীতে ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় দেশি জাতের মুরগি হারিয়ে যাচ্ছে। এই জাতকে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ একটি ভৌগোলিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এ দেশের বিভিন্ন রিজিওনাল ভেরিয়েশনাল ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে এবং অঞ্চলভিত্তিক ক্ষতির কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে।’

গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ইক্যু হেরিটেজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কর্মশালা-২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআইয়ের পোলট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও দপ্তর প্রধান এবং পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, মানুষ এবং গবাদিপশু পাশাপাশি থাকলে প্রাণিসম্পদে ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হলে তা মানুষের শরীরে ফেরত আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই আমাদের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। কারণ গবাদিপশুর যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলোয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে, যা মানব সম্পদের জন্য ভবিষ্যতে মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সৈয়দপুরে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) স্বাদুপানি উপকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দেশি জাতের হারিয়ে যাওয়া মাছ ফিরিয়ে আনার জন্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও উপযুক্ত কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে এসব মাছের প্রজাতি রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র। কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন।