ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে যখন বিশ্ব শক্তিগুলো আলোচনা করছে, তখন ড্রোনযুদ্ধ আরও তীব্র হচ্ছে। রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল শোধনাগারে আক্রমণ চালিয়েছে ইউক্রেন। গত শনিবার রাতে অন্তত ৩৬১টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ‘বিশাল কিরিশি’ তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত ৩৬১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে চারটি নির্দেশিত আকাশ বোমা এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত একটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। তবে হামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি মন্ত্রণালয়। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রজদেনকো জানিয়েছেন, কিরিশি এলাকায় তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ পড়ে যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, তা নেভানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, তারা শোধনাগারটিতে হামলা চালিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, এটি ছিল একটি সফল আঘাত। রয়টার্স শোধনাগারের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যাচাই করতে সক্ষম হয়নি। কিরিশি শোধনাগার বছরে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টন (৩ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন) রুশ অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে, যা দেশের মোট উৎপাদনের ৬.৪ শতাংশ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে, যেন তারা রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে। এদিকে, পোল্যান্ডে রুশ ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে যাচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)। ইউরোপের পূর্ব সীমান্তের প্রতিরক্ষায় ‘ইস্টার্ন সেনট্রি’ নামের মিশন ঘোষণা করেছে সামরিক জোটটি। শনিবার নিজ আকাশসীমায় রুশ ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেছে রোমানিয়াও। পোল্যান্ডে রাশিয়ার ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে জোট মিত্রদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে দেওয়া এ বিবৃতিতে আকাশসীমা লঙ্ঘনকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।