কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। গত পাঁচ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা কক্সবাজার রিজিয়নের অধীনস্থ ব্যাটালিয়নগুলো মাদক আটকে রাখতে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অভিযান চালাচ্ছে।
বিজিবি জানায়, গেল দুই মাসে কক্সবাজার রিজিয়নের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন একশো সাতচল্লিশটি অভিযানে আটাশি কোটি নয় লাখ চৌষট্টি হাজার টাকা মূল্যের আটাশ লাখ দুইশো নয় পিস ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে।
এ সময় একশো আটাশি জন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু মাদকই নয়, বাইশ লাখ সাইত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের বাইশটি অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়।
এ সময় পাঁচ জন অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়। এছাড়া দশ কোটি একান্ন লাখ টাকা মূল্যের বার্মিজ দুইশো ছাব্বিশটি গরুসহ অন্যান্য চোরাচালানি মালামালও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (পনেরো সেপ্টেম্বর) দুপুর বারোটার দিকে কক্সবাজারের উর্মি রেস্ট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ।
তিনি জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মাদক চোরাচালান রুটে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি রুটে বিজিবির সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত টহল দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ড্রোন, নাইট ভিশন ডিভাইসসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালান রোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
ভবিষ্যতে মাদক প্রবেশ, চোরাচালানকারীদের দমন এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (দুই বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, উখিয়া ব্যাটালিয়নের (চৌষট্টি বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দীনসহ অন্যান্য বিজিবি কর্মকর্তা।