নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে আসা চীনা নাগরিকসহ মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় তাদের হেফাজতে থাকা তিন নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটকদের মধ্যে চীনা নাগরিক ‘লি ওয়েই হাও’ এবং বাংলাদেশি দালাল ফরিদুল ইসলাম রয়েছেন। এ সময় কেন্দুয়া উপজেলার কমলপুর গ্রামের ১৮ বছর বয়সী আলফা আক্তার, একই উপজেলার মোজাফরপু গ্রামের ২০ বছর বয়সী লিজা আক্তার এবং জামালপুর জেলার ১৭ বছর বয়সী বৃষ্টি নামের এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলফা আক্তারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়ার উদ্দেশে ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন চীনা নাগরিক লি ওয়েই হাও। তার লক্ষ্য ছিল আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর ওই তরুণীকে চীনে নিয়ে যাওয়া। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে পাসপোর্ট ও বৈধ নথিপত্র দেখানোর অনুরোধ করলে লি ওয়েই হাও কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে ব্যর্থ হন। এসময় স্থানীয়রা সন্দেহ করলে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মানবপাচারকারী চক্রকে ধরতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে এবং আরও দুই নারীকে উদ্ধার করে।
পুলিশ আরও জানায়, আটক চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিজস্ব এজেন্ট ব্যবহার করে গার্মেন্টস শ্রমিক ও তরুণীদের ফাঁদে ফেলে। এর মাধ্যমে তাদের চীনে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক ব্যবসায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। জামালপুরের ১৭ বছর বয়সী কিশোরী বৃষ্টিকে সম্প্রতি আরেক চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের নামে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চীনে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আসা লি ওয়েই হাওকে সন্দেহজনক মনে হলে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। এরপর অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তিন নারীও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
খুলনায় ট্রাকচাপায় মাদ্রাসা ছাত্র নিহত
রানী সেজে আলোচনায় অপু বিশ্বাস