অভিযোগ-বিতর্ক তদন্তের দাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে উত্থাপিত অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। গতকাল সোমবার সংগঠনটির প্রেস টিম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন হয় ১১ সেপ্টেম্বর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর এই নির্বাচন ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনটি একদিকে যেমন ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তেমনি বিতর্কিতও হয়েছে। অব্যবস্থাপনায় পূর্ণ এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাশুল দিতে হয়েছে আমাদের একজন তরুণ শিক্ষককে তার জীবন দিয়ে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের শুরু থেকেই এর অদক্ষতা, লোকবল বৃদ্ধিতে অনীহা, সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রতি বৈরিতা প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিবেচনায় সহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর পটভূমিতে মারাত্মক অদক্ষতার একটি পরিবেশ আমরা লক্ষ করেছি।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে গুরুতর সমস্যাগুলো প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো হলো ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা ও ব্যালট পেপার, একজন ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে দেখিয়ে নির্বাচনের চার দিন আগে বাতিল করা, ব্যালট পেপার ছাপানোর পর ডোপ টেস্টের প্রাসঙ্গিকতা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় ব্যালট পেপার ছাপানো হয়নি, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স হলগুলোয় পাঠানোর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট রাখতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর শেষ মুহূর্তে রাত আড়াইটায় পোলিং এজেন্ট রাখার অনুমতি দেওয়া, ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া, ছাত্রী হল পরিদর্শনে প্রার্থী ও সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া, নির্ধারিত ভোটারের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার সরবরাহ, অমোচনীয় কালির দাগ উঠে যাওয়ার ঘটনা, যা ভোট কারচুপির সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বৈধ শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও অনেকে ভোট দিতে পারেননি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জাকসু নির্বাচনে জাল ভোটের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিছু হলের একাধিক প্রার্থীর নাম ব্যালটে ছাপা হয়নি, কতজন সদস্যকে ভোট দিতে হবে, সে নির্দেশনায় ভুল সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময় সব হলে ভোটগ্রহণ শেষ হয়নি, এমনকি নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পরও ভোটগ্রহণ চলতে থাকা, ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনায় প্রশ্ন ওঠায় হাতে গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে তা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজন সহকর্মী অতিরিক্ত ব্যালট পেপার সরবরাহ ও অমোচনীয় কালির দাগ উঠে যাওয়ার অভিযোগ তুলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। একইভাবে, নির্বাচনের দিনদুপুরের পর এসব অভিযোগ তুলে অংশগ্রহণকারী আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। ক্যাম্পাসের সব খাবার ও চায়ের দোকান বন্ধ রেখে উৎসবমুখর পরিবেশকে দমবন্ধ অবস্থায় রূপান্তর করা হয়। নির্বাচনের দিনদুপুরের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গেটে জড়ো হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ, পাঁচজন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসব থেকে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, একটি নির্দিষ্ট দলকে জয়ী করার লক্ষ্যে সমস্ত মনোযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রার্থী, রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনারদের বর্জন, পদত্যাগ ও সমস্ত অভিযোগ উপেক্ষা করা হয়েছে। উল্লিখিত কারণগুলো থেকে স্পষ্ট, নির্বাচনটি পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপরই বর্তায়।’