জাতীয় গ্রিডে যুক্ত আরও ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের হবিগঞ্জের বাহুবলের রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপ থেকে দৈনিক আরও ৮ মিলিয়ন (৮০ লাখ) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাস কূপের উদ্বোধন করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী সুমন বিকাশ দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটি একটি সংস্কার কূপ। প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন হারে আগামী ১০ বছর এ কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দেশে একদিকে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। বিপরীতে কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। ফলে গ্যাস সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। চড়া দামে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে সংকট কিছুটা মোকাবিলা করা গেলেও এ খাতে ব্যয় বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের ওই গ্যাস পরিমাণে কম হলেও গ্যাস সংকট কিছুটা হলেও দূর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টরা। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম রবিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাস ফিল্ডের উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামাণিক ও  বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।

গ্যাস ফিল্ডস কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) গত ১২ জুলাই থেকে কূপটিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে। এর মধ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর নতুন স্তরে গ্যাসের সন্ধান মেলে। বাপেক্স ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) যৌথভাবে কূপটির সংস্কার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর গতকাল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ওই গ্যাস।

সূত্রমতে, গ্যাসের পাশাপাশি উপজাত হিসেবে কনডেনসেটও পাওয়া যাবে কূপটিতে। বর্তমানে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের ১১টি কূপের মধ্যে ৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।