পুলিশকে অতীতের নির্বাচনী কালিমা থেকে বের হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সর্বোচ্চ ডিগ্রি প্রদর্শন করতে হবে। নির্বাচনের আগে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। পুলিশ কোনো দল, আদর্শ বা ব্যক্তির প্রতি দুর্বলতা প্রদর্শন করবে না। এ ছাড়া চলমান পুলিশের অভিযানে আরও জোর গুরুত্ব দিতে হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল রোধে থানাগুলোকে আরও তৎপর হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এই নির্দেশনা দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের আগে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল রোধে থানাগুলোতে জোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দ্রুত জামিনের বিষয়ে দাবি তুললেন। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জামিনের বিষয়টি আদালতের। তবে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, কোনো দল, আদর্শ বা ব্যক্তির প্রতি দুর্বলতা প্রদর্শন করা যাবে না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ যেকোনো সংগঠনের অপতৎপরতা রোধে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের তিনি মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিএমপির আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রসিকিউশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ছিনতাইয়ের স্পটসমূহ চিহ্নিত করে টহল কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা রোধে এদের সহায়তাকারী ও অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
সভায় যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন আগস্ট-২০২৫ মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি যেমন দস্যুতা, চুরি, সিঁধেল চুরি, খুন, অপমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলাসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন। এ সময় ডিএমপি কমিশনার উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন।
মাসিক অপরাধ সভায় আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।
এ সময় অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মাসুদ করিম; অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম; অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস) হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) জিললুর রহমান ও যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।