যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, এর চার সাংবাদিক এবং প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউজের বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার ফ্লোরিডার মধ্যাঞ্চলীয় যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের একটি সম্পাদকীয় এবং পেঙ্গুইন প্রকাশিত ‘লাকি লুজার : হাউ ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কোয়ান্ডার্ড হিজ ফাদার’স ফরচুন অ্যান্ড ক্রিয়েটেড দ্য ইলিউশন অব সাকসেস’ বইটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের মারাত্মক ক্ষতি করেছে।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, আজ আমি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মামলা করার গৌরব অর্জন করলাম। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, পত্রিকাটি তার এবং তার পরিবার ও ব্যবসা নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা)’ মতাদর্শ নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা জানত যে এসব লেখা ও বইয়ের মধ্যে অসত্য ও বিকৃত তথ্য রয়েছে, তবুও তারা তা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানান, এসব প্রতিবেদন ও বই তার ব্র্যান্ডের আর্থিক মূল্য ক্ষুন্ন করেছে, ভবিষ্যৎ আর্থিক সম্ভাবনাও ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি) শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়াকেই তারা এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। মার্চে শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশের সময় নির্ধারিত ‘লক-আপ’ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে টিএমটিজির শেয়ারমূল্য চাপের মুখে রয়েছে।
এই মামলার আগে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ট্রাম্প যৌন ইংগিতপূর্ণ একটি নোট ও ছবি জেফ্রি এপস্টেইনকে দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন যৌন অপরাধে অভিযুক্ত বিতর্কিত ধনকুবের এপস্টেইন। ট্রাম্প বলেন, ২০০৬ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা শুরু হওয়ার আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে ট্রাম্প সিবিএস-এর মালিক প্যারামাউন্ট-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলায় মীমাংসায় পৌঁছান।