বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মেয়াদ হবে ৬ বছর

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনার জন্য নতুন আইনের খসড়া পরিচালনা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে। এ আইনে গভর্নরের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা।

সভার সূত্র জানায়, বর্তমান আইনে কিছু বিষয়ে আপত্তির কারণে সংশোধন আনা হয়েছে। এ খসড়া আইন দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, নতুন আইনে পরিচালনা পর্ষদে সরকারের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, দুজন ডেপুটি গভর্নরকে বোর্ডে রাখার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও  তাতে আপত্তি উঠেছে। ফলে আগের নিয়ম অনুযায়ী বোর্ডে একজন ডেপুটি গভর্নরই থাকবেন।

এ ছাড়া, স্বতন্ত্র প্রতিনিধি হিসেবে পাঁচজন সদস্য বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন। বোর্ড নির্দেশ দিয়েছে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত এ আইনের খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, নতুন আইনে বোর্ডে সরকারি প্রতিনিধি তিনজনের পরিবর্তে একজন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া, পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালকের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দুজন ডেপুটি গভর্নরের প্রস্তাব থাকলেও শুধু একজনের অনুমোদন পাওয়া গেছে, যা আগের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গভর্নরের মেয়াদ ৬ বছর

নতুন আইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একবার পুনর্নিয়োগযোগ্য। ডেপুটি গভর্নরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরকে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ এবং সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। নিয়োগের পর তাদের বেতন ও অন্যান্য শর্ত তাদের অসুবিধার কারণে পরিবর্তন করা যাবে না।

আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরকে অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ এবং সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে, বিশ্বাসভঙ্গ, গুরুতর অসদাচরণ বা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের অপসারণ করা যাবে। অপসারণের আগে শোকজ নোটিসের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি ও বিনিময় হার নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, ব্যাংক খাতের তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনার ক্ষমতা পাবে। এ ছাড়া আমানত বীমা স্কিম, শেষ ভরসা হিসেবে ঋণদাতার ভূমিকা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রচারের দায়িত্বও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর থাকবে।

আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা গ্রহণ করবে না। তবে, অর্থনীতি পরিচালনায় সমন্বয়ের জন্য অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সমন্বয় পরিষদ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই পরিষদ ত্রৈমাসিক বৈঠকে আর্থিক, মুদ্রানীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রানীতির সামঞ্জস্য পর্যালোচনা করবে। অবশ্য পরিষদের ভূমিকা শুধু পরামর্শমূলক; সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন থাকবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী সংকটাপন্ন ব্যাংকের সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনে আর্থিক জরিমানা, সীমাবদ্ধতা বা বিশেষ তদারকি আরোপের ক্ষমতাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকবে।