চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভোটার তালিকা থেকে ‘টাউন অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘ট্রেড গ্রুপ’ ক্যাটাগরির সদস্যদের ভোটাধিকার বাতিল করা না হলে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে দুটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। ‘চট্টগ্রাম সচেতন ব্যবসায়ী সমাজ’ ও ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামে ব্যবসায়ীদের দুটি সংগঠনের নেতারা গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন। আগামী ১ নভেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে চেম্বারে অতীতের ভূঁয়া ভোট, নামসর্বস্ব, বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক ‘টাউন অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘ট্রেড গ্রুপ’ ক্যাটাগরি বাতিল করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু অতীতে চেম্বারকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংগঠন হিসেবে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশে ওই দুই ক্যাটাগরি পুনর্বহাল করে একটি চক্র আবারও দেশের অন্যতম প্রাচীন এই বাণিজ্য সংগঠনটিকে বিগত দিনের ন্যায় দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চট্টগ্রাম সচেতন ব্যবসায়ী সমাজের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এসএম নুরুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ লতিফ নানা কৌশলে চেম্বারকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটিকে পরিণত করেছিলেন পারিবারিক সংগঠনে। এই ক্ষেত্রে তার বড় হাতিয়ার ছিল বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক দুটি ক্যাটাগরি ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন। নির্বাচন নামের প্রহসনের অংশ হিসেবে এই দুই ক্যাটাগরি থেকে ছয়জন পরিচালককে বিনা ভোটে নির্বাচিত করে আনা হতো এবং প্রেসিডিয়াম গঠনে এরা প্রভাব বিস্তার করত। আমরা অনেক দিন ধরে ক্যাটাগরি দুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি সুষ্টু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চেম্বারে ব্যবসায়ীদের সত্যিকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকল্পে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্তের মাধ্যমে ওই দুটি ক্যাটাগরি বাতিল করা হয় এবং এ দুটি ক্যাটাগরির সদস্যরা প্রাথমিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। কিন্তু চেম্বারের একজন সাবেক সভাপতি বানোয়াট কাগজপত্র দিয়ে আপিল করে এবং ১১ সেপ্টেম্বর সশরীরে আপিল বোর্ডে উপস্থিত হয়ে বাতিলকৃত টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ সদস্যদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে অনেকটা বাধ্য করে। এর মধ্য দিয়ে তিনি এম এ লতিফের সন্তান ও আত্মীয়দের চেম্বার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। যা অত্যন্ত অনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ক্যাটাগরিতে পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন সাবেক এমপি এমএ লতিফের ছেলে ওমর মুক্তাদির। পটিয়ার ‘জি ডি মৎস্য খামার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর হিসেবে পটিয়া অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি। অথচ তার বাড়ি নগরীর খুলশী এলাকায়। একই ক্যাটাগরিতে রাঙ্গুনিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভোটার হয়েছেন আবসার হাসান চৌধুরী জসিম। তিনি এমএ লতিফের ভাই জহুর আলমের ভায়রা ভাই। এ ছাড়া হাটহাজারী ও বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশন থেকেও লতি ফের আত্মীয়দের সদস্য করে আনা হয়েছে। একইভাবে ট্রেড গ্রুপ ক্যাটাগরিতে চিটাগাং মিল্ক ফুড, চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড ক্যামিকেলস থেকে এমএ লতিফের নিকটাত্মীয়দের সদস্য করে আনা হয়েছে।

এসএম নুরুল হক অবিলম্বে ওই দুই ক্যাটাগরির সদস্যপদ বাতিল করার জন্য চেম্বারের প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ড এবং মহাপরিচালক, বাণিজ্য সংগঠনের কাছে দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিয়ে এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন ও নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক শাহজাহান মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যান্ড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স গ্রুপের সভাপতি মাহবুব রানা, ইমাদ এরশাদ, মোস্তাাক আহমেদ, কামরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।