সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন (২১) সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিতে সিপাহি পদে চাকরি পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। এ সময় তার বাবা নুরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘বিজিবি সবসময় ফেলানীর পরিবারের পাশে আছে। আরফান হোসেন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রশিক্ষণ শেষে তিনি একজন যোগ্য বিজিবি সদস্য হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফেলানী হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বদা সীমান্তে সতর্ক রয়েছে।’ আরফানের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলের চাকরি হয়েছে তার যোগ্যতায়, সঙ্গে সবার দোয়াও ছিল। আশা করি, সে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। তাহলে আমার মেয়ে ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে।’
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী খাতুন। তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ফেলানীর পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।