নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা খারিজ

নিউ ইয়র্ক টাইমস, প্রকাশক পেঙ্গুইন এবং এর চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা ১৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। আদালত বলেছে, ট্রাম্প ৮৫ পৃষ্ঠার যে দীর্ঘ অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন, সেটিতে দেওয়ানি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়নি। তাই নতুন করে মামলা দায়েরের জন্য ট্রাম্পের আইনজীবীদের আদালত এক মাস সময় দিয়েছেন। ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক স্টিভেন ডি. মেরিডে গত শুক্রবার বলেন, মামলাটি নিঃসন্দেহে এবং অমার্জনীয়ভাবে সিভিল প্রসিডিউরের রুল ৮-এর শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও জানান, অভিযোগপত্রে থাকতে হবে ‘তথ্যের সংক্ষিপ্ত, সরল ও সরাসরি উপস্থাপনা’। অথচ ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল ‘স্পষ্টত অনুপযোগী ও অগ্রহণযোগ্য’। বিচারক বলেন, ট্রাম্পের আইনজীবী দল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় মামলা দাখিল করতে পারবে, তবে সেটি সর্বোচ্চ ৪০ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বিচারক মেরিডে তার রায়ে বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে মাত্র দুটি মানহানির অভিযোগ ‘কাউন্ট-১’ এসেছে ৮০তম পৃষ্ঠায় এবং ‘কাউন্ট-২’ ৮৩তম পৃষ্ঠায়। তিনি বলেন, অভিযোগপত্র প্রমাণ সাজানোর বা রাজনৈতিক তর্ক পুনরাবৃত্তি করার জায়গা নয়।

মানহানি ও কুৎসা রটানোর অভিযোগে গত সোমবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং এর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন ট্রাম্প। মামলার এজাহারে বলা হয়, নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের একটি সম্পাদকীয় এবং পেঙ্গুইন প্রকাশিত ‘লাকি লুজার : হাউ ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কোয়ান্ডার্ড হিজ ফাদার’স ফরচুন অ্যান্ড ক্রিয়েটেড দ্য ইলিউশন অব সাকসেস’ বইটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা জানতেন যে এসব লেখা ও বইয়ের মধ্যে অসত্য ও বিকৃত তথ্য রয়েছে, তবুও তারা তা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেছেন।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মামলাটির কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এটি গণমাধ্যমকে ভয় দেখানোর কৌশল ছাড়া কিছু নয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা নিরপেক্ষভাবে সত্য প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভয়ভীতি কোনোভাবেই সাংবাদিকদের প্রথম সংশোধনী অধিকারকে রুখতে পারবে না।