দেবী দুর্গার আগমনী সুর বেজে উঠেছে। আজ শুভ মহালয়া। মহালয়া শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘আনন্দ নিকেতন’। দুর্গা দেবী আজ মর্ত্যলোকে পা রাখছেন। সঙ্গে নিয়ে আসছেন গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী আর কার্ত্তিককে। শারদীয় দুর্গোৎসবের পূণ্যলগ্ন দেবীপক্ষের শুরু আজ থেকে। হিন্দু শাস্ত্রমতে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া। এর মাধ্যমে সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
পুরাণমতে, অসুর শক্তির কাছে দেবতারা যখন পরাভূত হয়ে স্বর্গলোকচ্যুত হন, তখন অশুভ ও অসুর শক্তির প্রভাব, প্রতাপ শুরু হয়। সেই অসুর শক্তিকে পরাভূত করতে একত্রিত হন দেবতারা। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ শক্তি সৃষ্টি করেন। তাদের তেজরশ্মী থেকে আভির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দেবতাদের দেওয়া দশটি অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে দেবী দুর্গা অসুর বিনাশ করেন। মহালয়ায় থাকে ঘোর অমাবস্যা। দেবী দুর্গার তেজের আলোয় অমাবস্যা দূর হয়ে প্রতিষ্ঠা পায় শুভ শক্তির আলো।
আজ সারা দেশের স্থায়ী, অস্থায়ী পূজা মণ্ডপগুলোতে নানা আচার ও অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদ্যাপিত হবে। মহালয়ার পরে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, এবার ১০ আশি^ন (২৭ সেপ্টেম্বর) শ্রী পঞ্চমীতে দেবীকে আমন্ত্রণ, ১১ আশি^ন (২৮ সেপ্টেম্বর) মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও অধিবাস, ১২ আশি^ন (২৯ সেপ্টেম্বর) মহাসপ্তমী, ১৩ আশি^ন (৩০ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী), ১৪ আশি^ন (১ অক্টোবর) মহানবমী এবং ১৫ আশি^ন (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য মতে, এবার সারা দেশে ৩১ হাজারের বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে আয়োজকদের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, প্যান্ডেল স্থাপন ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে।
আজ মহালয়ার দিনে ভোর থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে ঢাকের বোল, চণ্ডী পাঠ, পূজার্চ্চনা ও প্রার্থনার মাধ্যমে দুর্গা দেবীকে আহবান করা হবে। এ উপলক্ষে মৃত পূর্ব পুরুষদের স্মৃতিস্মরণ করে তর্পণ করা হবে। মহালয়ায় আজ জাতীয় ঢাকেশ^রী মন্দিরে ভোর ৬টায় শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া কল্পারম্ভ আবাহনে বিশেষ পূজার্চ্চনা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, রমনা কালী মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকে চণ্ডীপাঠ, পূজার্চ্চনার মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপিত হবে।