নেপালে চলতি মাসে হওয়া দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা ও নাশকতার তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করেছে সুশীলা কার্কি নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেশটির এক মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, বিস্তৃত পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতি ও চাকরির সংকট নিয়ে শুরু হওয়া জেন-জিদের বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত হিমালয়ের দেশটিতে মারাত্মক প্রাণঘাতী সংঘাত উসকে দিয়েছিল। কেপি শর্মা ওলিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য করা ওই বিক্ষোভ-সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৭৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট ও পার্লামেন্ট ভবনসহ অসংখ্য মল, বিলাসবহুল হোটেল ও বিক্ষোভকারীদের দৃষ্টিতে ‘দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত ব্যক্তিদের শো-রুমে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে দুই হাজারের বেশি আহতও হয়েছে। এসব সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গৌরি বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থমন্ত্রী রামেশ্বর খানাল।
প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে তিন মাসের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। খানাল বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, উভয় পক্ষের বাড়াবাড়ি এবং কারা আন্দোলন চলাকালে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো কাজে জড়িত ছিল কমিটি তা তদন্ত করে দেখবে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওলি-ও বিক্ষোভে সহিংসতার তদন্ত চেয়েছেন এবং বলেছেন, তার সরকার পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করতে বলেনি। ওলি দাবি করেন, বিক্ষোভ লক্ষ্য করে যেসব অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে, পুলিশের কাছে সেসব অস্ত্র ছিলই না। গত রবিবার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি নতুন মন্ত্রী হিসেবে আরও ৫ জনের নাম ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু পোস্ট। এ নিয়ে তার মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ৯-এ। তবে সহিংসতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে নেপালে। পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে নেপালে শৃঙ্খলা ফেরানোই এ মুহূর্তে সুশীলা কার্কির প্রধান চ্যালেঞ্জ।