এক পা নিয়ে সমুদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ ছোরাফের

পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে এক পা নিয়েই গভীর সমুদ্রের সাথে যুদ্ধ করছেন ছোরাফ। কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে কালাম মাঝির ছেলে তিনি।

২০১৫ সালে কুয়াকাটা থেকে আলিপুর যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারান ছোরাফ। ছেলেকে বাঁচাতে সর্বস্ব বিক্রি করে চিকিৎসা করান বাবা কালাম মাঝি। কিন্তু পা আর বাঁচাতে পারেননি। বাধ্য হয়েই চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে কেটে ফেলতে হয় পা। সেই থেকেই শুরু পরিবারের অন্ধকার দিন।

গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায় এক পা নিয়েই জাল সেলাই, নৌকা উঠানো-নামানো, এমনকি গভীর সমুদ্রেও মাছ ধরতে যাচ্ছেন ছোরাফ। তার দৃঢ় মনোবল ও শ্রমেই টিকে আছে গোটা পরিবার।

ছোরাফের বাবা কালাম মাঝি বলেন, নিজের সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করেছি। এখন সংসারের সমস্ত দায়ভার ছোরাফের কাঁধে। আমি আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। যদি সমাজ বা সরকার একটু সহযোগিতা করত, তাহলে আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো।

মা ফাতেমা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, দুই মাস হাসপাতালে রুটি খেয়ে থেকেছি, রোজা রেখেছি, তবুও ছেলের পাশে ছিলাম। এখনো ভয় হয়, যদি আবার কোনো বড় বিপদ আসে! আমি দেশের মানুষের কাছে আমার ছেলের জন্য সাহায্য চাই।

স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, পা হারানোর পরও ছোরাফকে ছেড়ে যাইনি। ২০১৬ সালে বিয়ে করি। এখন আমাদের তিন সন্তান। বড় ছেলে বাবাকে সাহায্য করতে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান চালায়।

সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের একটি ঘরেই টিকে আছেন তারা। এনজিও থেকে অল্প ঋণ নিয়ে একটি ছোট নৌকা তৈরি করেছেন ছোরাফ। ছোট ভাইকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে যান মাছ ধরতে। কৃত্রিম পা আর ক্র্যাচই তার একমাত্র ভরসা।

ছোরাফ বলেন, জীবন বাজি রেখে সমুদ্রে যাই। স্রোতের বিপরীতে লড়াই করতে করতে এটা এখন আমার স্বভাব। চাই সরকার আমাকে সহযোগিতা করুক, যাতে আমার সন্তানদের মুখে হাসি থাকে।

সমাজে এমন অনেক গল্প আছে সব হারিয়েও যারা হাল ছাড়েন না। ছোরাফ তাদেরই একজন। এক পা নিয়েও আজও গভীর সমুদ্রের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি, যেন তার পরিবার বেঁচে থাকে সম্মানের সাথে।