উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি এ ঘটনায় আহতদের পরিবারকে ২ কোটি ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহত নাজিয়া-নাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম।
নিহত ও আহতদের পরিবারগুলোর অন্য সাতটি দাবি হলো, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অক্ষম আহতদের পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা, আহতদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং হেলথ কার্ড প্রদান; ২১ জুলাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোক দিবস হিসেবে পালন; নিহতদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ; নিহত পাইলট, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্টাফদের শহীদি মর্যাদা (সনদ ও গেজেটসহ) প্রদান; নিহতদের স্মরণে উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ নির্মাণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করা।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত তাসনিয়া হকের বাবা নাজমুল হক বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাইলটসহ ৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন অভিভাবক, তিনজন শিক্ষক এবং স্কুলের প্রিয় স্টাফ মাসুমা বেগম। এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ৯ জন, আর জারা চিকিৎসা শেষে ফিরেছেন তারাও নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।’
সন্তানহারা নাজমুল হক আরও বলেন, ‘আমরা বিমান দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারের সদস্যরা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের প্রিয় সন্তানদের কবর দিয়ে প্রতিনিয়ত দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছি। আহতদের ফিজিওথেরাপি, ড্রেসিং, গ্রাফটিংসহ দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় ও যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশের নয়। অনেক শিশু ও শিক্ষক আছেন যাদের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে তারা হয়তো আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, জীবন-জীবিকা থমকে গেছে। দুর্ঘটনার পর প্রথম দিকে কিছু খোঁজখবর মিললেও বর্তমানে স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ছাড়া আর কেউ পাশে নেই। হতাহত পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ফলোআপ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আমাদের সন্তানরা স্কুলে ছিল, সরকারের যুদ্ধবিমান স্কুলে গিয়ে পড়েছে। পৃথিবীর কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আহত রায়ান তৌফিকের বাবা সুমন, নিহত সামিউলের বাবা রেজাউল করিম শামীম, আহত সানজিদা বেলায়েত মেয়ে জায়ানা মাহবুব প্রমুখ।