মিথ্যা হত্যা মামলা করায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা!

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সাগর হত্যা নিয়ে পরিবারের করা একটি মামলা থাকার পরও প্রতারণা, বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে আরেকটি মামলা করার অভিযোগে মামলার বাদী, আইনজীবী, সাক্ষী, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ও পরিদর্শকের (ইন্সপেক্টর) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বড় শালঘর গ্রামের মো. হানিফ মোল্লার স্ত্রী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সাগরের মা বিউটি আক্তার এ মামলাটি করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইসতিয়াক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন মামলার বাদী খন্দকার নূরে আমীন সিদ্দিক, মামলার তিনজন আইনজীবী নাসিম উদ্দীন মো. বায়েজিদ, আহসান হাবিব ও আশরাফুল ইসলাম, সাক্ষী আব্বাস আলী ও তাহের মালতিয়া এবং শাহ আলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. মতিউর রহমান ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাগর। নিহতের মা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি মামালা করেন। ওই মামলার কিছু আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই মামলাটি প্রশ্নবিদ্ধ করায় নিহত সাগরের মৃত্যু সনদপত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে শাহ আলী থানা এলাকায় সাগরের মৃত্যুর ঘটনাস্থল দেখিয়ে আসামি খন্দকার নূর আমীন সিদ্দিক নিজেকে সাগরের বোন জামাই উল্লেখ করে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন, যা পরে আসামি মতিউর রহমান ও শফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় শাহ আলী থানার ৯ (৩) ২৫ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পরে আসামিরা তাদের মামলার আসামিদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে হলফনামা তৈরি করে দুই পুলিশ কমকর্তা সহায়তা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে মর্মে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেছেন। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এ মামলার দুই নম্বর স্বাক্ষী অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম আকাশ তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৩৩ জনের নামে কদমতলী থানায় একটি মামলা করেন, যা পিবিআই তদন্ত করছে। ওই মামলাটিতে ২০ জনের বেশি যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নেই তাদের কেন্দ্রীয় অথবা মহানগরীর সম্পাদক পদ দেখিয়ে মামলায় আসামি বানিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।