পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম দাবি করেছেন, মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশিরা সরাসরি জঙ্গিবাদে জড়িত ছিলেন না। তার ভাষ্য, জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মূলত শ্রমিক শ্রেণির মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে এটিইউর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা মূলত শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। সরাসরি জঙ্গিবাদে জড়িত ছিলেন না। দুস্থ ও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে এর পেছনে কারা জড়িত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।’
গত জুলাইয়ে কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৬ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করার কথা জানান মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান খালিদ ইসমাইল। তিনি দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকরা সিরিয়া ও বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর কাছে অর্থ পাঠাতেন।
সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, দেশে বর্তমানে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ নেই, তাহলে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) মতো প্রতিষ্ঠান থাকার কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এটিইউ প্রধান বলেন, ‘নেই বললে আগামীতে কেউ করবে না, এটি নিশ্চয়তা কি আমরা কেউ দিতে পারি? সে ক্ষেত্রে আমাদের থেমে থাকার তো কোনো সুযোগ নেই। আমাদের আরও সিরিয়াসলি কাজ করতে হবে। একটি মাত্র সন্ত্রাসী ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এই বিশেষায়িত ইউনিটের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। বিশেষ করে, ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধ, সাইবার ক্রাইম ও হ্যাকিংয়ের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদিচ্ছা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এটিইউর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিশ্বাসী নয়। তবে কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বা ভেজাল কোনো ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে কিংবা দেশি-বিদেশি চক্রান্তে পড়ে কেউ কেউ বিচ্যুতি হতে পারে এই আশঙ্কা তো থেকেই যায়। সে কারণে এসব বিষয়কে আমরা নজরদারিতে রাখব, যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের কোনো সৃষ্টি না হতে পারে।’
রেজাউল করিম জানান, বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ‘ইনফোমেট’ নামে একটি অ্যাপ এবং একটি যোগাযোগ নম্বর চালু করা হয়েছে, যেখানে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।
বর্তমান সরকার বলছে, বিগত সরকারের আমলে জঙ্গি দমনের নামে নাটক হতো, এটিইউর অনেক অফিসার পলাতক আছেন, এসব কারণে দেশে জঙ্গিবাদ বর্তমানে আছে কি নাএসব প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘পেছনে কী হয়েছে, না হয়েছে আপনারাও (সাংবাদিক), আমরাও জানি। আমরা বলতে চাচ্ছি, সত্য সত্যই, আর মিথ্যা মিথ্যাই। সেই জায়গাটায় আমরা অবিচল থাকব। কেউ অপরাধ করে থাকলে সেই অপরাধের কোনো ছাড় নেই। আমরা জঙ্গিবাদ নিয়ে দেশে এ ধরনের কিছু এখনো দেখিনি। কেউ যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বিপথে চলে যায়, সে জায়গায় আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে। সেটাই আমরা নজরদারি করব কেউ হঠাৎ করে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে কি না। পেছনে না গিয়ে আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগোতে চাই।’