জোর করে চুল কেটে দেওয়া

ফরিদা পারভীনের স্মরণানুষ্ঠানে ‘চুল কেটে’ প্রতিবাদ

প্রকাশ্যে জোর করে বিভিন্ন ব্যক্তির চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ময়মনসিংহের সংস্কৃতিকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরের শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যান এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে এক অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজকের চুল কেটে প্রতীকী এ প্রতিবাদ জানানো হয়। সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী লালনকন্যাখ্যাত ফরিদা পারভীনের স্মরণে ওই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে মাজার ভাঙচুর, ফকির ও আত্মভোলা মানুষদের জোর করে চুল কেটে দেওয়ারও প্রতিবাদ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পরম্পরা’। অনুষ্ঠানের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আল্লাহ তুই দেহিস : মাজার ভাঙার সংস্কৃতিতে আঘাত, মানুষের ওপর অত্যাচারকারীদের ঘৃণা।’

সম্প্রতি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার হালিম উদ্দিন আকন্দকে জোর করে চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় তিনি হালিম ফকির নামে পরিচিত। তাকে যেভাবে কয়েকজন লোক ধরে জোর করে চুল কেটে দেন, সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক কবি শামীম আশরাফের চুলও কেটে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ৬টায়। শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি ‘পরম্পরা’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও কবি শামীম আশরাফ বলেন, ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাই। আমরা দু-এক দিন ধরে একটি ঘটনা দেখছি, তিনজন মানুষ একটা মানুষকে জোর করে ধরে তার লম্বা চুল কেটে দিচ্ছে। যখন চুল কেটেই দিচ্ছে, তখন লোকটি সর্বশেষ কথা বলে দিচ্ছেন, ‘‘হে আল্লাহ, তুই দেহিস।” এই যে “দেহিস”, এর ভেতর দিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানাই। মাজার সংস্কৃতির ওপর যারা আঘাত করছে, শিল্প-সংস্কৃতির মানুষের ওপর যে অত্যাচার করা হচ্ছে, এর প্রতিবাদ জানাই।’

শামীম আশরাফ বলেন, ‘লালনকন্যা ফরিদা পারভীনের মহাপ্রয়াণে দেশে কোনো আয়োজন আমরা দেখিনি। ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করে আমরা ছোট একটি আয়োজনের চেষ্টা করেছি। সেখানে বাউল-ফকিরদের সংস্কৃতিতে আঘাতেরও আমরা প্রতিবাদ করেছি।’

ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ের বড়ইতলায় সাদা কাপড় পেতে তাতে গান করেন শিল্পীরা। সকাল ১০টা পর্যন্ত মানুষজন এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

শিল্পী ফরিদা পারভীন গত ১৩ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি লালনগীতির জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিলেন।