ব্রিকসের সদস্য হতে আবেদন ফিলিস্তিনের

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে ফিলিস্তিন। তবে এখন পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। ফলে আপাতত অতিথি দেশ হিসেবেই জোটটির ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবে ফিলিস্তিন। এমনটাই জানিয়েছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আবদেল-হাফিজ নোফাল। গত শুক্রবার রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। নোফাল বলেন, ফিলিস্তিন ব্রিকসের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু কিছু বিশেষ শর্তের কারণে আমরা এখনো পূর্ণাঙ্গ সদস্য হতে পারিনি। সেই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা অতিথি হিসেবেই থাকব। দ্রুতই আমরা জোটের পক্ষ থেকে জবাব পাওয়ার আশা করছি।

২০০৬ সালে রাশিয়া, চীন, ভারত ও ব্রাজিল মিলে ব্রিকসের যাত্রা হয়। পরে ২০১১ সালে এতে যোগ দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বজুড়ে একটি বিকল্প অর্থনৈতিক জোট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ব্রিকস। ইতিমধ্যে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি ও বাণিজ্য জোরদার হয়েছে। ২০২৪ সালে ব্লকে যোগ দেয় মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া ও ইরান। সবশেষ দেশ হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিকসের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ লাভ করেছে ইন্দোনেশিয়া। শুধু সদস্য দেশ নয়, আরও একাধিক অংশীদার রাষ্ট্র ব্রিকসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ব্রিকসের অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে আছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

ফিলিস্তিনের আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় চীন জানায়, আমরা আরও সমমনোভাবাপন্ন অংশীদারদের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার বিষয়কে স্বাগত জানাই। আমরা চাই সবাই মিলে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ব্রিকস হলো উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এটি বহু মেরূকরণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রায়ণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। ফলে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে ব্রিকস ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে।