জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আ.লীগ বিএনপি মারামারি

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অনুষ্ঠিত অধিবেশন চলাকালে ব্যাপক শোডাউন করেছে বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিউ ইয়র্কে সমবেত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনৈতিক নেতাদের স্বাগত জানান।

সেখানে জাতিসংঘে ড. ইউনূসের আগমনের প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। তবে বিএনপির শোডাউনের সামনে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেনি। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের লোকজন এলাকা ত্যাগ করে।

আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন নিজুম মজুমদার। অদূরে দাঁড়িয়ে থেকে মারামারির সংবাদ শুনে তিনি আর সমাবেশে যোগ দেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ উভয় দলকে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি দিলেও, ৪৭ অ্যাভিনিউতে বিএনপির বিপুল উপস্থিতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে ফেলে। নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে দিতে বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করলে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।

বিএনপির নেতারা জানান, টানা তিন দিন ধরে আওয়ামী লীগের হামলা, হুমকি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পর শুক্রবারের সমাবেশকে তারা টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং লন্ডন থেকে আসা আনোয়ার হোসেন খোকনের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে আওয়ামী লীগের উপস্থিতিকে ব্যর্থ করে দেন।

জাতিসংঘের সামনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আনোয়ার হোসেন খোকন, আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, গাজী মনির, গোলাম ফারুক শাহীন, জসিম ভূঁইয়া, অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাইদ, ভিপি জসিম, আহবাব চৌধুরী খোকন, ফয়েজ চৌধুরী, দেওয়ান কাওসার, সোহরাব হোসেন, বদিউল আলম, নাহিদুল ইসলাম নাহিদসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গত সাড়ে ১৫ বছরের ‘অবৈধ শাসনে’ দেশকে ধ্বংস করেছে, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে হাজারো নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। এখনো তারা একই কৌশলে ক্ষমতায় ফেরার ষড়যন্ত্র করছে।