বিএনপির কমিটিতে যুবলীগ নেতা ও মহিলা লীগ নেত্রীর নাম 

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি যুবলীগ নেতা ও অন্য একটিতে এক মহিলা লীগ নেত্রীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে এক নম্বর সদস্য রাখা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই উপজেলার আওতাধীন ছয়টি ইউনিয়নে ১০ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টামণ্ডলী ও ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে স্থানীয় বিএনপি। 

দরবারপুর ইউনিয়নে ফজলুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও মো. ছাইফ উদ্দিন চৌধুরী বাবলুকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কমিটির ৪৬ নম্বর সদস্যপদে রয়েছে একই ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের কার্যানির্বাহী সদস্য মো. হামিদুল্লাহ। তিনি একই ইউনিয়নের চকবস্তা গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে ও ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে জুলাই আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত একটি বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত ৬০ নম্বর আসামি। এছাড়া ফেনীর আদালতে অপর এক জুলাই যোদ্ধার দায়েরকৃত অভিযোগপত্রেও ৫২ নম্বরে তার নাম রয়েছে।

এদিকে মুন্সিরহাট ইউনিয়নে নুরুল হক খোকনকে সভাপতি ও মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষিত কমিটির ২১ নম্বরে থাকা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বিবি মরিয়মও মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আমলে দলটির হয়ে বিনা ভোটে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ পেয়েছিলেন তিনি। বিএনপির কমিটিতে বিবি মরিয়মের নাম দেখে স্থানীয়রা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তোলা ও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর একাধিক ছবি প্রকাশ করে পোস্ট দিচ্ছে। 

গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন ও সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নে মনির আহম্মদকে সভাপতি ও মো. ইয়াছিন মাহমুদ মজুমদার সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির ১ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে দলটির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ফেনীর কৃতী সন্তান বেগম খালেদা জিয়াকে। 

এছাড়া আনন্দপুর ইউনিয়নে সভাপতি পদে জিয়া হায়দার নাছির ও সাধারণ সম্পাদক পদে হুমায়ুন কবির ফারুককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমজাদহাট ইউনিয়নে সভাপতি পদে মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার ও বাহার উদ্দিন মজুমদার সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। জিএমহাট ইউনিয়নে সভাপতি পদে আবুল হাসেম ভূঁইয়াকে ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন পাটোয়ারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সব কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলটির এক সমর্থক লিখেছেন-দদরবার ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য হামিদুল্লাহ এখন বিএনপির কমিটির সদস্য। ফেনী-১ এর সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম মজনু ও ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফকরুল ইসলাম স্বপন এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন কত টাকার বিনিময়ে যুবলীগের দরবারপুর ইউনিয়নের সদস্য হামিদুলহককে বিএনপির সদস্য বানানো হয়। যার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ফেনীতে ছাত্রহত্যার মামলা আছে-কিভাবে সম্ভব। ফ্যাসিস্টদের যে টাকা দিয়ে গত ১৫ বছর চালিয়েছেন সে আজ বিএনপির সদস্য। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের সঙ্গে নৌকা মার্কার নির্বাচনী প্রচারণার সময় তোলা একাধিক ছবি পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। 

এদিকে যুবলীগ নেতা ও জুলাই আন্দোলনকারীদের উপর হামলা মামলার আসামিকে বিএনপির কমিটিতে স্থান দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন বলেন, তিনি আগেও বিএনপি করতেন। বিগত সময়ে চাপে পড়ে যুবলীগের কমিটিতে নাম দিতে বাধ্য হয়েছে। এখন আবার বিএনপিতে যোগদান করেছে। মামলার বিষয়টি সঠিক নয়। একইভাবে মরিয়ম মেম্বারকে নিজেদের লোক দাবি করছেন তিনি।