জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইউরোপ। তবে মহাদেশটির ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (ইইএ) মনে করে, পরিবেশ রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব মোকাবিলায় এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি ইউরোপের দেশগুলোকে আরও সক্রিয় ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ১৯৯০ সালের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোয় গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৩৭ শতাংশ কমেছে, তবে সামগ্রিকভাবে মহাদেশটির পরিবেশগত অবস্থা ভালো নয়। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য স্থির করা হলেও, এখনো সব দেশ এতে একমত হতে পারেনি। এর আগে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও ইইউর ২৭ সদস্যরাষ্ট্র ২০৩৫ সালের মধ্যে নিঃসরণ কমানোর আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এই প্রেক্ষাপটেই ইইএ তাদের নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইইএ মনে করে, ইউরোপিয়ান গ্রিন ডিল নামের চুক্তিতে যেসব নীতিমালা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উদ্যোগের সিদ্ধান্ত হয়েছে; সেগুলো আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ¦ালানির ব্যবহার দ্বিগুণ করা এবং জীবাশ্ম জ¦ালানির ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে ইউরোপ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পেয়েছে। কিন্তু পরিবেশের সামগ্রিক অবস্থা অবনতির দিকেই যাচ্ছে। ৩৮টি সদস্য দেশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংরক্ষিত অভয়ারণ্যের ৮১ শতাংশ খারাপ বা খুব খারাপ অবস্থায়, ৬০-৭০ শতাংশ মাটি ক্ষয়প্রাপ্ত আর ৬২ শতাংশ জলাশয় ভালো অবস্থায় নেই। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুপেয় পানির সংকটও বাড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপের অধিকাংশ ভবনের নকশা অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহনীয়ভাবে তৈরি হয়নি। এর ফলে প্রায় ১৯ শতাংশ ইউরোপীয় নাগরিক তাদের ঘরে আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারছেন না। যদিও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মাত্র ২১টি দেশে তাপ মোকাবিলার উপযোগী স্বাস্থ্যবিষয়ক পরিকল্পনা রয়েছে।